জ্ঞান ফিরতেই জাহিদের প্রশ্ন, ‘আব্বা কই?’

জ্ঞান ফিরতেই জাহিদের প্রশ্ন, ‘আব্বা কই?’

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ৩১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:০৬ ৩১ অক্টোবর ২০২০

জাহিদ

জাহিদ

স্কুল বন্ধ থাকায় বাবা সায়েদ ব্যাপারীর সঙ্গে বেলুন বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতো জাহিদ। শুক্রবার বিকেলে ডোমসার জগৎচন্দ্র ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখাতে ছেলেকে নিয়ে আসেন সায়েদ। 

সেখানে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় আকস্মিকভাবে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সায়েদের মাথার খুলি উড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সায়েদের মৃত্যু হয়। এ সময় সায়েদের ছেলে জাহিদ ও সিয়াম নামের পাঁচ বছরের আরেকটি শিশু আহত হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা নেয়া হয়। আর জাহিদুলকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণে জাহিদের দুই পা ও বুক ঝলসে গেছে। ছোট শরীরের অধিকাংশ অংশই ব্যান্ডেজে মোড়ানো। হাসপাতালে শুয়ে জাহিদ জানায়, তার বাবা স্কুলমাঠে প্রবেশপথের এক কর্নারে বসে বেলুনে গ্যাস ভরছিলেন। সিলিন্ডারটি গরম হয়ে গিয়েছিল। সেটি পানি দিয়ে ঠান্ডা করার কথা বলেছিলেন তার বাবা। এমন সময় হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আর কিছু মনে নেই তার।

জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই জাহিদ বলে, ‘আব্বা কই?’ তবে পরিবারের সদস্যরা এখনো তাকে বাবার মৃত্যুর খবর জানাননি।

জাহিদের মা রোকসানা আক্তার বলেন, ছেলেটি ফুটবল খেলা দেখতে বাবার সঙ্গে গিয়েছিল। একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। আমার দুই শিশুসন্তান নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াবো?

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, তাদের সঙ্গে ডোমসার গ্রামের দেলোয়ার মাতুব্বরের ছেলে সিয়াম মাতুব্বর আহত হয়েছে। ওই শিশু বেলুন কেনার জন্য সেখানে যায়। সে গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর নিহত সায়েদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস