হত্যার পর পোড়ানো হলো লাশ: আসামি কয়েকশ, গ্রেফতার ৫

হত্যার পর পোড়ানো হলো লাশ: আসামি কয়েকশ, গ্রেফতার ৫

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৯ ৩১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৯ ৩১ অক্টোবর ২০২০

ইনসেটে নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল

ইনসেটে নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

লালমনিরহাটের এসপি আবিদা সুলতানা বলেন, শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কয়েকশ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিও রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করছে পুলিশ। এরইমধ্যে অনেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানোর পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই ভিডিও ফুটেজ দেখেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত বলেন, তিনটি মামলার মধ্যে একটি হত্যা মামলা করে নিহতের পরিবার। সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর মামলা করেছে ইউপি চেয়ারম্যান। আর সরকারি কাজে বাধা দেয়া এবং আরো কিছু ধারায় পুলিশ একটি মামলা করে।

এদিকে দগ্ধ লাশের যে অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে আজ।

জানা গেছে, ঘটনার দিন কারা শহিদুন্নবী জুয়েলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনেছিল সেটি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল সিআইডি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গেছেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের কাজ করছেন।

লালমনিরহাটের ডিসি মো. আবু জাফর বলেন, দ্রুত ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।

বৃহস্পতিবার সুলতান যোবাইয়ের আব্দার নামে এক বন্ধুকে নিয়ে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বেড়াতে আসেন জুয়েল। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে মসজিদের সানসেটে রাখা কোরআন শরীফ পড়তে গিয়ে নামাতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত কোরআন ও হাদিসের বই তার পায়ে পড়ে যায়। পরে তিনি তুলে চুম্বনও করেন। বিষয়টি নিয়ে জুয়েলের সঙ্গে মুয়াজ্জিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জুয়েল ও সুলতান যোবাইয়েরকে পাশে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পুরো বাজারে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয় স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধরা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর