কৃত্রিম ফুলে সুখী জীবন

কৃত্রিম ফুলে সুখী জীবন

মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫৪ ৩১ অক্টোবর ২০২০  

কৃত্রিম ফুল বিক্রি করছেন জালাল হোসেন

কৃত্রিম ফুল বিক্রি করছেন জালাল হোসেন

ফুল সৌন্দর্য ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রকৃতি ও সৌন্দর্য পিপাসু অনেক মানুষ তাদের বাড়ির আঙ্গিনা বা ছাদে ফুলের চাষ করে থাকেন। অনেকে শিশুদের খেলনা কিংবা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঘরে রাখেন বিভিন্ন জাতের কৃত্রিম ফুল। তাছাড়া বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাগজের ফুলের কদর সর্বত্র।

কাগজ বা প্লাস্টিকের এসব ফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, এমন কিছু পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কাগজ ও প্লাাস্টিকের মনকাড়া কৃত্রিম ফুল তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ শেষে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্পও রয়েছে অনেক।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরে চৌধুরিপাড়া মোড়ে দেখা মিলল তেমনি এক ফুল বিক্রেতার সঙ্গে। দীর্ঘ আলাপচারিতায় জানা গেল, প্রায় দুই যুগ সময় ধরে নিজে তৈরি ফুল করে বিক্রি করে সংসার চালিয়ে আসছেন জালাল হোসেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী জালাল হোসেনের বাড়ি নওঁগা জেলার আতরাই উপজেলায়। তার সংসারে রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সবচেয়ে ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

তিনি প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামের হাট-বাজার,পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে ঘুরে রঙিন কাগজের ফুল ও প্লাস্টিকের ফুল, বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সারাদিন প্রখর রোদ কিংবা মুষলধারের বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুল বিক্রি করতে হয় তাকে। নিজ হাতে তৈরি কাগজের ফুল বিক্রি করাই তার অন্ন জোগানোর একমাত্র উৎস।

বড় দুই ছেলে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রত্যাশায় দাওরা পাস করেছে। তাদের বাবা জালাল হোসেন আজ নিজেকে সার্থক মনে করছেন।

তিনি বলেন, স্বপ্ন যখন সত্যি হয় তখন সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ফুল বিক্রি করতে আমাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। প্রতিটা ফুল ৫-১০ টাকা করে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ফুল বিক্রি করা যায়। নিজে ফুল তৈরি করে বিক্রি করি বিধায় লাভ বেশি হয়। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে একটা বেড়ার ঘরে মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় থাকছি। এ কয়েকদিন মাটিরাঙ্গা ও তার আশপাশে হাটের দিন ফুল বিক্রি করব, এ পেশায় একই এলাকার আরো অনেকে রয়েছে, সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে থাকি ও পালাক্রমে নিজেরা রান্না করি, আমার ইচ্ছা ছিল ছেলেগুলোকে আলেম বানাবো, ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করবো, আল্লাহ্ আমার আশা পুরণ করেছেন, ছেলেরা চাকরি পেলে আমি এ পেশা ছেড়ে অবসর নেব। আমি খুব সুখী দিনযাপন করছি। সদিচ্ছা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে সব পেশায় লাভবান হওয়া সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসা যদিও লাভজনক তারপরও জীবনের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে বা কম ভাড়ায় চালিত যেসব পরিবহনে রয়েছে সেসব পরিবহনে করে গন্তব্যে যেতে হয়। এভাবেই চলে আমাদের জীবন জীবিকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ