পরিচয়হীন এক ভিক্ষুকের মৃত্যু, চল্লিশায় হাজারো মানুষের ভালোবাসা

পরিচয়হীন এক ভিক্ষুকের মৃত্যু, চল্লিশায় হাজারো মানুষের ভালোবাসা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০৪ ৩১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:১০ ৩১ অক্টোবর ২০২০

পরিচয়হীন এক ভিক্ষুকের চল্লিশায় হাজারো মানুষের ভালোবাসা

পরিচয়হীন এক ভিক্ষুকের চল্লিশায় হাজারো মানুষের ভালোবাসা

পরিচয়হীন এক ভিক্ষুকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে পোস্টার ছাপানো হয়েছে। শুধু তাই নয় তার চল্লিশায় হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আইয়ুব পাগলা আজ বেঁচে নেই, কিন্তু রেখে গেছেন অসংখ্য ভালোবাসার মানুষ। তার জন্য ভালোবাসার অনন্য নজির স্থাপন করলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাসিন্দারা।

আইয়ুবের কথা স্মরণ করে সাঘাটা ও ফুলছড়ির বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আইয়ুব পাগলা বলতেন ‘একটা ট্যাকা দে, মুই ভাত খামো।’

তবে তার জন্ম কোথায় বা তার পরিচয় সম্পর্কে কেউ কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি। জীবন যুদ্ধে পরাজিত সেই আইয়ুব পাগলা গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মারা যান। তবে তিনি অসংখ্য ভালোবাসার মানুষ রেখে গেছেন।

আইয়ুবের মৃত্যুর খবরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের হাজারো মানুষ মর্মাহত হয়। আইয়ুবকে উত্তরউল্ল্যা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। আইয়ুবের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে কেউ কাফনের কাপড়, কেউ বাঁশ, কেউ আগরবাতি নিয়ে দাফনের জন্য এগিয়ে আসেন।

মৃত্যুর পর মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শোকবার্তার ব্যানার-পোস্টার বিভিন্ন স্থানে লাগানোর পাশাপাশি মানুষের ফেসবুকেও জায়গা করে নিয়েছে এই আইয়ুব পাগলা। আইয়ুব পাগলার জানাজার পর তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানের জন্য মজলিস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চল্লিশায় উপস্থিত জনতা

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের অর্থায়নে ৪০ দিন পরে শুক্রবার সকালে সাঘাটার ঐতিহ্যবাহী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ব্যাপক পরিসরে ‘আইয়ুব-এর মজলিস’ সম্পন্ন হয়। মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও ওই মজলিসে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে মুসলমাদের জন্য তিনটি গরু ও একটি খাসি এবং হিন্দুদের জন্য দুটি খাসি আলাদা রান্না করা হয়েছিল। এই মজলিসের উদ্ধোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আজাদ শীতল বলেন, মাঝে মাঝে আইয়ুব পাগলা অদৃশ্য হয়ে যেত। ১০-২০ দিন আবার কখনো ১-২ মাস পর আমাদের মাঝে হাজির হতো। এই পাগলের প্রতি হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসার প্রমাণ মিলেছে তার মজলিসের চিত্র দেখে। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদ ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, আইয়ুবের জানাজার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মজলিস করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার আইয়ুবের মজলিস করা হল। পরপারে আইয়ুব যেন শান্তিতে থাকে সেই দোয়া করি। আইয়ুব পাগলা সবার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস