এক গর্তেই চাপা দেয়া হয় বাবা-মা-ছেলের লাশ

এক গর্তেই চাপা দেয়া হয় বাবা-মা-ছেলের লাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৪ ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:০৯ ২ নভেম্বর ২০২০

এক গর্তেই মাটিচাপা দেয়া হয় তিনজনের লাশ

এক গর্তেই মাটিচাপা দেয়া হয় তিনজনের লাশ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাবা-মা ও ছেলেকে হত্যা করে একই গর্তে মাটিচাপা দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বনগ্রাম ইউপির জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- জামষাইট কান্দাপাড়া গ্রামের মো. আসাদ মিয়া, তার স্ত্রী পারভীন খাতুন ও তাদের ছোট ছেলে লিয়ন হোসেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আসাদ। তাদের বড় ছেলে তোফাজ্জল ঢাকায় থাকেন। মেজ ছেলে মোফাজ্জল হোসেন ওইদিন নানার বাড়ি ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে মোফাজ্জল নানার বাড়ি থেকে এসে মা-বাবা ও ভাইকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সারাদিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে মেম্বারের কাছে যান। পরে মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যায় কটিয়াদী মডেল থানায় জিডি করতে যান মোফাজ্জল।

                                                           আরো পড়ুন: ঈশিতা ঝুলে ছিল ২০ মিনিট, এগিয়ে যায়নি কেউ!

পরে পুলিশ তদন্ত করতে এসে দেখে বাড়ির পাশের একটি জায়গায় নতুন মাটি খোঁড়া। সেখানে একটু খোঁড়াখুঁড়ি করলে একটি ছোট ছেলের হাত পাওয়া যায়। পরে রাতে কিশোরগঞ্জের এসপি মাশরুকুর রহমান খালেদের নেতৃত্বে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আসাদ, পারভীন ও লিয়নের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত আসাদের মেজ ছেলে মোফাজ্জল জানান, জমি নিয়ে চাচাদের সঙ্গে তার বাবার বিরোধ চলছিল। এর জেরে চাচারা তাকে বিভিন্ন সময়ে মারধর করেছেন। এরপরই পুলিশ তৎপর হয়।

সাবেক মেম্বার কামাল হোসেন বলেন, জমি নিয়ে আসাদের সঙ্গে ভাই-বোনদের বিরোধ ছিল। শনিবার এ ব্যাপারে সালিশ হওয়ার কথা ছিল।

                                                 আরো পড়ুন: ভাই-ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দিলো খুনি

কিশোরগঞ্জের এসপি মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি। পরে বাড়ির পাশে মাটিচাপা দেয়া তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- নিহত আসাদের ছোট ভাই দীন ইসলাম, বোনজামাই ফজলুর রহমান, বোন তাসলিমা ও নাজমা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএস