মৃত্যুর আগে নানাকে যে হৃদয়বিদারক কথা বলেছিল নুর নাহার

মৃত্যুর আগে নানাকে যে হৃদয়বিদারক কথা বলেছিল নুর নাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৪০ ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০৯:৪৬ ৩০ অক্টোবর ২০২০

স্বামী রাজিব খানের সঙ্গে নুর নাহার (ইনসেটে নুর নাহার)

স্বামী রাজিব খানের সঙ্গে নুর নাহার (ইনসেটে নুর নাহার)

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিয়ের ৩৪ দিনের মাথায় স্বামীর বর্বর যৌনসঙ্গমে মারা যাওয়া ১৪ বছরের কিশোরী নুর নাহার মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার নানাকে জড়িয়ে ধরে কিছু হৃদয়বিদারক কথা বলেছিল।

বিলাপের স্বরে নুর নাহারের সেই কথাগুলো বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নানা লাল খান। তিনি বলেন, নানা ও (স্বামী) মানুষ না জানোয়ার, আমি (ছাত্রী) কত হাতে পায়ে ধরেছি, সহ্য করতে পারছি না, তাও ও (স্বামী) আমারে ছাড়ে নাই। রক্ত পড়তাছে, যন্ত্রণায় কুকাইতাছি, দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমারে বাঁচতে দেন, তাও ও (স্বামী) আমারে ছাড়ে নাই। ও (স্বামী রাজিব) বলে প্রথম দিকে এ রকম সমস্যা হয়ই, কয়েকদিন পর ঠিক সয়ে যাবে, এমনটাই বলতে বলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ের জামাইর অভাবের কারণে নুর নাহারকে ছোটবেলাতেই আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। দিনমজুরি করেই তাকে লেখাপড়া করাচ্ছিলাম। ছেলে প্রবাসী ও ধনী হওয়ায় আমরা নুর নাহারকে বিয়ে দেই। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এজন্য নুর নাহারের শাশুড়ি তাকে গ্রাম্য কবিরাজের ওষুধ খাওয়াচ্ছিল। পরে রক্তক্ষরণ বেশি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

লালা খান বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের কারণে নুর নাহারের গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমরা তাকে আর বাঁচাতে পারলাম না। মৃত্যুর পর নুর নাহারের স্বামী রাজিব তার মরদেহ পর্যন্ত দেখতে আসেনি। মূলত স্বামীর কারণেই আমার নাতনির মৃত্যু হয়েছে।

নুর নাহারের স্বামী রাজিব বলেন, বিয়ের পর তার সঙ্গে পাঁচ ছয়দিন মেলামেশা হয়েছে। সে বলছে তার কষ্ট হয়, ব্যথার কথা জানান এবং রক্তক্ষরণ দেখা দেয়। বিষয়টি দুই পক্ষের অভিভাবকদেরও জানানো হয়। 

নুর নাহারের শাশুড়ি বিলকিস বেগম বলেন, আমি মনে করছি ভূত-প্রেতের আছর করতে পারে। তাই কবিরাজ দিয়ে তাবিজ এনে পরিয়েছি। তাতেও কোন উন্নতি না হওয়ায় টাঙ্গাইল সদরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। 

নুর নাহারের বাবা বলেন, রাজিবের বাবাকে কয়েক দফা ফোন দিয়েছি। তিনি বলছেন, আপনারা চিকিৎসা করান, আমি গিয়ে কি করবো। আর ক্লিনিকে নুর নাহারকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে স্বামী রাজিব কৌশলে সেখান থেকে কেটে পড়ে।

এর আগে গত রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর নাহারের মৃত্যু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর