মাচা পদ্ধতিতে আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য

মাচা পদ্ধতিতে আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৫ ২৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৭ ২৯ অক্টোবর ২০২০

বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর

বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় বাড়ির আঙিনায় সবুজ পাতার নিচে বাঁশের মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। 

তরুণ উদ্যোক্তা ও আইনজীবী সামিউন নবী সামিম জেলায় প্রথম মাচা পদ্ধতিতে আঙুর ফলের চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তার প্রত্যাশা অচিরেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ হবে।

জানা গেছে, গত বছর রাজশাহী থেকে দুটি লাল ও দুটি কালো আঙুরের চারা (কাটিং) নিয়ে আসেন সামিম। সেই চারা রোপণ করেন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায়। গত বছর গাছে প্রথম ফল আসে। এ বছর পরিপূর্ণ ফল দেখে তিনি সফলতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আঙুর মিষ্টি হওয়ায় পরিপূর্ণভাবে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। ফলে দুই বছরের মাথায় প্রথমবারের তুলনায় ৫-৬ গুণ বেশি আঙুর ফল ধরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার অরুন চন্দ্র রায় সামিমের আঙুর বাগান পরিদর্শন করেছেন। অল্প জায়গাতে অধিক ফলন এবং সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

এলাকাবাসী জানান, সামিমের বাগানের ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আঙুর খেতে পারছেন তারা। উদ্যোগ নিলেই এটা ব্যাপক আকারে উৎপাদন করা সম্ভব।

সামিউন নবী সামিম জানান, অদম্য ইচ্ছা থেকে চারটি আঙুরের চারা রোপণ করে শুরু করেন বাগান। গত বছর তার আঙুর গাছে ফল ধরে। এ বছরও আঙুরের ভাল ফলন হয়েছে।

তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। আলো বাতাস ও পর্যাপ্ত রোদের তাপ থাকে এমন জায়গাতে রোপণ করলে ফলের স্বাদ ভালো পাওয়া যায়। গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার দিয়ে গাছ রোপণ করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে গাছের যত্ন নিতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, আইনজীবী সামিউন নবী সামিমের আঙুর বাগান পরিদর্শন করেছি। সামিম আঙুর চাষ করে ভাল ফলনও পেয়েছেন। যা অনেকটা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে আঙুর চাষ বাণিজ্যিকভাবে করা যাবে কি-না তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে কৃষি বিজ্ঞানীরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এমকেএ/এসআর/এইচএন