আলোড়ন তোলা ঝিনাইদহের সেই ‘গাছবাড়ির’ অদ্ভুত কিছু তথ্য

আলোড়ন তোলা ঝিনাইদহের সেই ‘গাছবাড়ির’ অদ্ভুত কিছু তথ্য

রামিম হাসান, ঝিনাইদহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫০ ২৬ অক্টোবর ২০২০  

গাছে মোড়ানো বাড়ি

গাছে মোড়ানো বাড়ি

দোতলা ভবনের দেয়ালগুলো গাছ দিয়ে মোড়ানো। ছাদেও রয়েছে গাছ। বাড়িটির সামনের আঙিনায় মূল্যবান আর দুর্লভ গাছের সমাহার। বাদ যায়নি সেপটিক ট্যাংকটিও। নান্দনিক করে তোলা হয়েছে ফল-ফুলের বাগান। যা সবার নজর কেড়েছে।

প্রায় পাঁচ হাজার গাছ দিয়ে ঘেরা এ বাড়িটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামে। প্রত্যন্ত গ্রামের এ বাড়িটি একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ। তারা এর নাম দিয়েছেন ‘গাছের বাড়ি’। তবে আলোড়ন তোলা এ বাড়ির অদ্ভুত কিছু তথ্য জানা গেছে।

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপার চাঁদপুর এলাকা থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে গেলেই চোখে পড়বে লক্ষণদিয়া গ্রামটি। যে গ্রামের একটি বাড়ি এখন গাছবাড়ি হিসেবে পরিচিত। সেই বাড়ির মালিক গোলাম কওছার আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম। যিনি পেশায় সূচিশিল্পী।

গ্রামের নারীদের দিয়ে সূচি শিল্পের (কাপড়ে নকশা তোলা) কাজ করান আমিনুল ইসলাম। প্রথমে নিজ গ্রামের নারীদের দিয়ে কাজটি করালেও বর্তমানে পাশের গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ কাজ ভালোভাবে করতে ২০১৪ সালে গ্রামের বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করেন তিনি। কিন্তু গ্রামের নারীরা সেই ভবনে বসতে চান না, তারা নিজেদের বাড়িতে কাজ নিয়ে যান আবার কাজ শেষে তৈরি পণ্য দিয়ে যান। এতে আমিনুল ইসলামের নির্মাণ করা বাড়িটি অনেকটা অকেজো হয়ে পড়ে। আর তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এ বাড়িতে গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করবেন।

বাড়ির চারপাশে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার গাছ

গাছের সংগ্রহশালা করতে বাবার দেয়া জমির সঙ্গে আমিনুল ইসলামও কিছু জমি কিনে ১৪ বিঘা জমিতে এ গাছের সংগ্রহশালা তৈরি করেন। দেশ-বিদেশ থেকে গাছ পছন্দ করে সংগ্রহশালায় নিয়ে আসেন। বেলজিয়াম, পর্তুগাল, মালয়েশিয়া, ভারত, দুবাইসহ একাধিক দেশের গাছসহ বর্তমানে এ সংগ্রহশালায় নানা প্রজাতির প্রায় পাঁচ হাজার গাছ রয়েছে। প্রতি মাসেই এ সংখ্যা আরো বাড়ছে। আর এ গাছবাড়ি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকে। ঘুরে দেখেন সাজানো সবুজ প্রকৃতি।

এখানে রিটা, নাগলিঙ্গম, লিলির মতো মূল্যবান গাছও রয়েছে। আবার রয়েছে দেশীয় ষড়াসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ। বাড়িটির দেয়াল ‘ওয়াল কার্পেট’ নামের গাছ দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। প্রথমে পুরো বাড়ির চারপাশে ৫০০ চারা রোপণ করা হয়। যা পরবর্তীতে পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে। সেপটিক ট্যাংকটিও গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। সেখানে বসে মানুষ ফুলের ঘ্রাণ উপভোগ করেন। তবে বুঝতে পারেন না নিচেই রয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা। এ সংগ্রহশালায় বিলুপ্তপ্রায় অনেক গাছ রয়েছে।

স্ত্রী সিন্ধা ইসলাম, ছেলে মায়জাবিন আমিন, মেয়ে আনুশকা বিনতে আমিনকে নিয়ে আমিনুল ইসলামের সংসার। ব্যবসার প্রয়োজনে পরিবারসহ ঢাকায় থাকেন। ঢাকার বাসাতেও আমিরুল ছাদ বাগান করেছেন। গাছের সংগ্রহশালায় এখন পর্যন্ত কত টাকা খরচ হয়েছে সে বিষয়ে তার কোনো হিসাব নেই বলে জানান। তবে জীবনে যা আয় করছেন এর বৃহৎ অংশই গাছের পেছনে ব্যয় করেন। গাছ পরিচর্যায় শ্রমিক রাখলেও গাছের টানে কয়েকদিন পরপর গ্রামে আসেন আমিরুল। বললেন, গাছগুলো যেন তার সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর