ভুয়া বিল-ভাউচারে মিল্কভিটার কোটি টাকা আত্মসাৎ

ভুয়া বিল-ভাউচারে মিল্কভিটার কোটি টাকা আত্মসাৎ

এম.আর সুমন, রায়পুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৮ ২৬ অক্টোবর ২০২০  

রায়পুর মিল্কভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর

রায়পুর মিল্কভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মিল্কভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ফরহাদুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুধ উৎপাদন, বিপনন, গো-খাদ্য, ওষুধ ও উপকরণ ক্রয়-বিক্রয়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তিনি গত চার বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ করছেন তিনি।

এ অভিযোগ স্বয়ং খামারিদের। অভিযোগ পেয়ে মিল্কভিটার প্রধান কার্যালয় থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পে মিল্কভিটা অনুদান দেয় পাঁচ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানাটি উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে এখানে ১০৪টি মা মহিষ, পাঁচটি ষাড় ও ১০৬টি বাছুর রয়েছে। এসব প্রাণীর প্রতিদিন প্রায় ৬শ’ কেজি দানাদার খাদ্য ও প্রায় ১২শ’ কেজি খড় লাগে। ৭০টি খামার সমিতির মধ্যে চলমান রয়েছে ৩৩টি। যেখানে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

রায়পুরের খামার সমিতির সভাপতিদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক ফরহাদুল আলম এখানে যোগদানের পর থেকে নিজের ইচ্ছেমত খড়কুটো ক্রয়ে লাখ লাখ টাকার অনিয়ম করছেন। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২শ’ লিটার মহিষের দুধ বাইরে বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন। মহিষ প্রজনন কেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন প্রকার ওষুধ ক্রয়ের নামে ভুয়া ভাউচার দেখিয়া অর্থ আত্মসাৎ করেন। দুগ্ধ কারখানার জেনারেটরের তেল কেনার নামেও ভুয়া ভাউচার দেখান ফরহাদুল আলম। সেখান থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে নিজের পকেটে ঢোকান তিনি।

রায়পুর মিল্কভিটা দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর

২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর মিল্ক ভিটার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান সরেজমিন তদন্তে এলে দুধ বিক্রির টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। সেই টাকা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন তত্ত্বাবধায়ক ফরহাদুল।

খামার সভাপতিরা আরো জানান, ফরহাদুল আলম দুধ বিক্রি দেড় বছর পর টাকা প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা দিয়েছেন। এখনো মহিষের খাদ্য-ওষুধ, জেনারেটরের তেল, বিক্রেতাদের দেয়া ভ্যাটের টাকা আত্মসাৎ করছেন। ৫০ হাজার টাকার খড় কেনা হলেও তিনি ভাউচারে ৬৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তার ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় মিতালি বাজারের পশু চিকিৎসক কমল। এছাড়া উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে দুধ বিক্রি করে সেই টাকা ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযুক্ত ফরহাদুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। খড় ক্রেতাদের ভাউচার না থাকায় আমাদের ভাউচার বানিয়ে নিতে হয়। আমি কখনোই বাইরে দুধ বিক্রি করি না। প্রতিষ্ঠানের এক টাকাও আত্মসাৎ করিনি।

মিল্কভিটার এজিএম (অ্যাডমিন) তোফায়েল আহাম্মদ বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে কাজ করছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর