যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া

যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া

শামীম আহমেদ, বরিশাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৯ ২৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৩ ২৫ অক্টোবর ২০২০

নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড, বরিশাল

নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড, বরিশাল

বরিশাল-মাওয়া রুটের মাইক্রোবাসে ভাড়া নিয়ে অরাজকতা চলছেই। যাত্রীদের জিম্মি করে নেয়া হচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। টাকা না দিলে নানা হয়রানির শিকার হন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। এছাড়া ভাড়া অনুযায়ী নির্ধারণ করা থাকে আসন। নির্ধারিত ভাড়া ২৫০ টাকা হলেও সামনের সিটে বসতে চাইলে দিতে হয় ৫০০ টাকা আর পেছনের সিটের ভাড়া ৪০০ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাড়া নিয়ে এমন নৈরাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে মাইক্রোবাসের চালক-হেলপার-সুপারভাইজারদের সিন্ডিকেট। বরিশালের নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ডে টিকেটের ব্যবস্থা থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য টিকেট ছাড়াই যাত্রী তোলে চালক-হেলপার-সুপারভাইজার। যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয় মাইক্রোবাসগুলোতে। যেন মানুষ নয়, আলু-পেঁয়াজের বস্তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে বাড়তি ভাড়া গোনার পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

পটুয়াখালী থেকে নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ডে আসা সোহেল, ফরহাদ, পারভেজসহ অনেকে বলেন, সময় বাঁচাতে বাসের পরিবর্তে মাইক্রোবাসে যাই। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি যাত্রী তোলা নিয়েও অরাজকতা চলে এখানে। জনপ্রতি ভাড়া আড়াইশ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে তিনশ থেকে চারশ টাকা। আবার সামনের সিটে বসতে চাইলে দিতে হয় পাঁচশ টাকা। এ নিয়ে তর্কাতর্কি করলে মাইক্রোবাসের হেলপাররা গায়ে হাত তোলে।

মিন্টু নামে এক যাত্রী বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসের সামনের সিট চাইলাম। হেলপাররা বলছে সামনে বসতে হলে পাঁচশ টাকা দিতে হবে। আমি প্রতিবাদ করায় হেলপার-সুপারভাইজাররা দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি আমার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। এ বিষয়ে মাইক্রো স্ট্যান্ডের সমিতির সভাপতির কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।

নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড, বরিশাল

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন সৈয়দ মামুন মীর নামে একজন। নিজেকে শ্রমিক নেতা দাবি করে মাইক্রো স্ট্যান্ডে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। তার নির্ধারণ করা ফয়সাল, কবির, আবুল কালাম আজাদ ও ওয়াসিম নামে চার যুবক মাইক্রো স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক চালক জানান, মাইক্রোবাসে ১৩টি আসনের বিনিময়ে তিন হাজার ৯০০ টাকা করে প্রতি ট্রিপের টিকিট কাটতে হয় কিন্তু যাত্রীদের ভাড়া বাবদ আমাদের দেয়া হয় মাত্র দুই হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া পার্কিং ফি ১০০ টাকা ও মামুন মীরকে চাঁদা দিতে হয় এক হাজার টাকা। এ কারণে খরচের টাকা তুলতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিতে হয় আমাদের।

এক বছর আগে নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন জামাই শহিদ। তার মৃত্যুর পর স্ট্যান্ড দখলে নেন মামুন মীর। মাইক্রোবাসের চালক-হেলপারদের দেয়া অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চার বছরে নথুল্লাবাদ মাইক্রো স্ট্যান্ড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন মামুন মীর।

এ ব্যাপারে সৈয়দ মামুন মীর বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। প্রায় ৭-৮ মাস নথুল্লাবাদ যাই না। ওখানে কি হচ্ছে আমার জানা নেই। তবে আমি ওখান থেকে এক টাকাও নেইনি। আমার ও আমার ছেলের ব্যবসা আছে। এসব টাকা আমাদের প্রয়োজন হয় না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) মো. জাকির হোসেন মজুমদার জানান, নথুল্লাবাদ স্ট্যান্ড কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি মেনে নেয়া হবে না। কোনো ব্যক্তির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএমপি কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করলে ছাড় দেয়া হবে না। চাঁদাবাজদের ধরতে পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এমআর