শাশুড়ির শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় কারাগারে মেয়ে-জামাই

শাশুড়ির শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ায় কারাগারে মেয়ে-জামাই

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৫ ২৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪২ ২৫ অক্টোবর ২০২০

রানা ও তার স্ত্রী

রানা ও তার স্ত্রী

বগুড়ায় শাশুড়ির শতকোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানাসহ জামাই আনোয়ার হোসেন রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রোববার দুপুরে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রবিউল আওয়াল। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম মন্টু।

এর আগে, ১ অক্টোবর রাতে বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম। অভিযোগে রানার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানাসহ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম, হাফিজার রহমান ও তৌহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে ৫ অক্টোবর অভিযোগটি সদর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর নিজেই দায়িত্ব পান।

এরপর ১১ অক্টোবর রানা ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্টে হাজির হতে বলেন। এর আগে, দেলওয়ারা বেগমের অপর চার মেয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বগুড়ার এসপির কাছে আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি দেয়ার লিখিত অভিযোগ করেন।

দেলওয়ারার লিখিত অভিযোগ এবং মামলার এজাহারে বলা হয়, তার স্বামী শেখ সরিফ উদ্দিন শহরের কাটনাপাড়া এলাকায় সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে স্বামীর মৃত্যু হলে দেলওয়ারা শহরের নওয়াববাড়ি এলাকায় বহুতল মার্কেট ‘দেলওয়ারা-সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট’ কিনে নেন। এরপর তিনি সরিফ সিএনজি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। দেলওয়ারা বেগম এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ছিলেন তার পাঁচ মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা, মাহবুবা সরিফা সুলতানা, নাদিরা সরিফা সুলতানা, কানিজ ফাতিমা ও তৌহিদা সরিফা সুলতানা।

দেলওয়ারা বেগম আরো অভিযোগ করেন, শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ও মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানাকে ব্যবসা দেখাশোনার মৌখিক অনুমতি দেন। একপর্যায়ে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক চেক ও এফডিআরসহ বিভিন্ন নথিপত্রে তার সই নেন জামাই। এরপর তার নিজের নামীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাসহ এফডিআর ভাঙিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি তুলে নেন রানা।

২০১৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অর্থ তুলে আত্মসাৎ করেন মেয়ে ও জামাই। এর বাইরে একই সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার নামীয় ব্যাংক হিসাব থেকে আরো ৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। আর তাদের এ কাজে সহায়তা করেন সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক কাম ক্যাশিয়ার নজরুল ইসলাম, ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক হাফিজার রহমান ও সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম।

দেলওয়ারা বেগম জানান, জামাই আনোয়ার হোসেন রানা অস্ত্র দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। এরইমধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর বাসার আলমারি-সিন্দুক থেকে টাকা, ব্যাংকের চেক, এফডিআর এবং ব্যবসায়িক সব নথিপত্র নিয়ে যান রানা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর