ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রভাবশালীর ছেলে, সিরাজগঞ্জজুড়ে তোলপাড়

ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রভাবশালীর ছেলে, সিরাজগঞ্জজুড়ে তোলপাড়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৮ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২২:১৯ ২৪ অক্টোবর ২০২০

ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রভাবশালীর ছেলে, সিরাজগঞ্জজুড়ে তোলপাড়

ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রভাবশালীর ছেলে, সিরাজগঞ্জজুড়ে তোলপাড়

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উপজেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শরিফুল ইসলাম শরিফের ছেলে জম্মুন মিশরী অপুর বিরুদ্ধে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করার অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে ব্যাগ ভর্তি টাকার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবর একটি সংগঠনের পদ বাগিয়ে নিতে কাউন্সিলরদের ভোট কিনতেই অপু টাকা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে। 

জানা গেছে, সংগঠনের রায়গঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক পদে পেতে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম শরিফও রয়েছেন। তিনিসহ অন্যান্য প্রার্থীরা রাত-দিন কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের পদ বাবার জন্য বাগিয়ে নিতে অপু টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে কাউন্সিলরদের ভোট কিনতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওই ছবি দেখে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অপুর বাবা শরিফের বিরুদ্ধে উপজেলায় জমি দখল, স্কুল কলেজ ও মাদরাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, এমপির বরাদ্দকৃত টি.আর. কাবিখা হরিলুট, বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও কয়েক কোটি টাকার জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের এক নেতা বলেন, সংগঠনের পদ পেতে এতোদিনের কালো টাকা খরচ করছেন শরিফুল ইসলাম শরিফ।ছেলেকে দিয়ে কাউন্সিলরদের ভোট কিনতেই এ তৎপরতা। এ ঘট্নায় উপজেলাসহ জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দলের পদ পেতে হীন চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই। 

স্থানীয় সাংবাদিক আতিক মাহমুদ আকাশ বলেন, একটি সংগঠনের রায়গঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের পদের প্রার্থী অপুর বাবা শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার ছেলে প্রকাশ্যে এভাবে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন না। এটা প্রশাসনের দেখা উচিত।

রায়গঞ্জ থানার ওসি শহিদুল্লাহ বলেন, শরিফুল ইসলাম শরিফের ছেলে অপু টাকার ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি জানা নেই। তবে কেউ প্রকাশ্যে টাকার ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে না।

রায়গঞ্জ উপজেলার প্রভাবশালী নেতা শরিফ উল আলম শরিফ বলেন, গত বছর ছেলের বন্ধু রায়হান ধান কেনার সময় ১০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়েছিল। হাটে যাবার সময় ওই ছবিটি তোলা হয়েছিল। সেই ছবি এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ ঘুষ দিলে এভাবে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে দেয় না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সংগঠনের ইউপির নেতারা কাউন্সিলদের তালিকা তৈরি করে। এখানে অন্য কারো হাত নেই। সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ