আবারো দখল-দূষণে একাকার খোয়াই নদী

আবারো দখল-দূষণে একাকার খোয়াই নদী

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৯ ২৪ অক্টোবর ২০২০  

উচ্ছেদ হওয়া বিভিন্ন অংশে টিনের চাপটা তৈরি করে ফের পরিচালনা করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও

উচ্ছেদ হওয়া বিভিন্ন অংশে টিনের চাপটা তৈরি করে ফের পরিচালনা করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও

অবৈধ দখল আর দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়া পুরাতন খোয়াই নদী উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে গেছে। তবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আবারো উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

এদিকে, উচ্ছেদ হওয়া এলাকাগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। আগের উচ্ছেদ অভিযানে মাছুলিয়া থেকে মার্কাজ মসজিদ পর্যন্ত অনেক বহুতল ভবন ভেঙে ফেলা হলেও এবার স্ব-মহিমায় দাঁড়াচ্ছে। তাই দ্রুত পুরাতন খোয়াই নদীর পূর্ণাঙ্গ সীমানা চিহ্নিতকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পুনরায় চালু, সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের দাবি সচেতন মহলের। একই দাবিতে কদিন আগে হবিগঞ্জের ডিসি কামরুল হাসানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে হবিগঞ্জ বাপা। 

জানা যায়, দখল দূষণ আর ভরাট হয়ে শহরবাসীর গলার কাটা ছিল পুরাতন খোয়াই নদী। নদীর পাড়সহ বিভিন্ন অংশে যে যার মতো দখল করে রেখেছিল দীর্ঘদিন। আর এতে করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগে পড়তে হতো শহরবাসীকে। 

তাই শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে তৎকালীন ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদের সময়কালীন শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। মাছুলিয়া থেকে মুসলিম কোয়ার্টার পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে এরপর তৎকালীন ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদের বদলি ও করোনার কারণে থমকে যায় উচ্ছেদ কার্যক্রম। আর এ সুযোগে তৎপর হয়ে উঠছে অবৈধ দখলদাররা। 

মাছুলিয়া থেকে অনন্তপুর এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, অনেক বহুতল ভবনের ভেঙে ফেলা অংশ ফের ইট বালু দিয়ে মেরামত করাচ্ছেন ভবন মালিকরা। মূল ভবনের যুক্ত হচ্ছে ভেঙে ফেলা অংশ। এতে করে আবারো পুরাতন খোয়াই দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও উচ্ছেদ হওয়া বিভিন্ন অংশে টিনের চাপটা তৈরি করে ফের পরিচালনা করা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। তাই সচেতন মহল মনে করছেন এখনই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে নদীটি গলার কাটা হয়ে আবারো দাঁড়াতে পারে। 

জেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, পুরাতন খোয়াই নদীটি যদি এখনই অবৈধ দখলমুক্ত করা না হয় তা হলে এর ভয়াবহ পরিমাণ ভোগ করবে শহরবাসী। একদিকে যেমন সৃষ্টি হবে জলাবদ্ধতা অন্যদিকে দূষণের মারাত্মক প্রভাব পড়বে জনমনে। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি কামরুল হাসান জানান, খুব শিগগিরই পুরাতন খোয়াই নদীর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। পূজা শেষে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম