সবজি ব্যবসায়ীর জমানো ছয় মণ কয়েন জমা নিচ্ছে সোনালী ব্যাংক

সবজি ব্যবসায়ীর জমানো ছয় মণ কয়েন জমা নিচ্ছে সোনালী ব্যাংক

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৪ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:০১ ২২ অক্টোবর ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

অবশেষে জমানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খবিরের ছয় মণ ওজনের ৬০ হাজার টাকার কয়েন নিতে শুরু করেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সোনালী ব‌্যাংক।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খবিরের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা মূল্যের কয়েন জমা নিয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন দেখে বিষয়টি সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এরপর তাদের নির্দেশে সোনালী ব্যাংক কয়েন জমা নেয়া শুরু করে।

আরো পড়ুনঃ সবজি বিক্রি করে জমলো ছয় মণ কয়েন, বিপাকে ব্যবসায়ী

মহম্মদপুর উপজেলা সোনালী ব্যাংক সদর শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মতিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্যবসায়ী খবিরের কয়েন জমা নেয়া হচ্ছে। খবিরের নামে সোনালী ব‌্যাংকে একটি হিসাব খোলা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন এক হাজার টাকার কয়েন জমা দিতে পারবেন তিনি। পর্যায়ক্রমে তার সব কয়েন জমা হবে। তিনি পরে চেকের মাধ্যমে কাগজের ব্যাংক নোট তুলে নিতে পারবেন।

জমানো কয়েনসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম খবির

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম খবিরের ছোট্ট ঘরে প্লাস্টিকের বড় চারটি বালতি আর দুই বস্তা বোঝাই শুধু কয়েন আর আর কয়েন। ১০ বছরে ক্রেতার কাছ থেকে নেয়া ২৫-৫০ পয়সা থেকে শুরু করে ১-২ টাকার কয়েন জমে এখন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। একসময় কয়েনগুলো বাজারে রাখলেও এখন বাড়িতে এনে রেখেছেন।

খবির বলেন, ব্যবসার পুঁজির তিনের দুই ভাগ কয়েনের মধ্যে চলে যায়। কয়েনের লেনদেন না থাকায় কষ্টে ছিলাম। এখন কয়েনগুলো ব্যাংক জমা নেয়ায় আমি খুব খুশি।

আরো পড়ুনঃ ৪০ বছরের পুরনো সিন্দুকে পাওয়া কাগজ নিয়ে ময়মনসিংহে হৈচৈ

খবির জানান, অনেক দরিদ্র মানুষ ও ভিক্ষুকেরা কয়েন দিয়ে সবজি কিনেছেন। তিনি মুখের উপর তাদের না বলতে পারেননি। অনেক জায়গায় ঘুরেও কয়েনগুলো চালাতে পারেননি। কোনো ব্যাংকও এতো কয়েন নিতে চাচ্ছে না।

উল্লেখ‌্য, সবজি ব্যবসায়ী খাইরুলের বাড়ি উপজেলা সদরের জাঙ্গালিয়া গ্রামে। মহম্মদপুর সদরে গত ২৫ বছর ধরে সবজির ব্যবসা করেন তিনি। ক্রেতার কাছ থেকে মুদ্রাগুলো নিলেও তার কাছ থেকে এখন আর কেউ নিচ্ছেন না। ফলে অচল হয়ে যাওয়া যাওয়া বিভিন্ন অঙ্কের এই ৬ মণ ওজনের মুদ্রা নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ