মামা-ভাগ্নির অদ্ভুত প্রেম, সেই সম্পর্ক এখন থানায়

মামা-ভাগ্নির অদ্ভুত প্রেম, সেই সম্পর্ক এখন থানায়

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩২ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৯ ২২ অক্টোবর ২০২০

নবাবগঞ্জ থানা-ফাইল ফটো

নবাবগঞ্জ থানা-ফাইল ফটো

অদ্ভুত প্রেম। তাও মামার সঙ্গে ভাগ্নির। শুনেই অনেকের চক্ষু চড়কগাছ। তবে প্রেমিক মামা সম্পর্কের আসল মামা নন, প্রতিবেশী মামা। প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ। মামা-ভাগ্নির অদ্ভূত এ প্রেমের সম্পর্ক শেষে থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাও ধর্ষণ মামলা হিসেবে।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউপির মনিরামপুরে। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, উপজেলার দাউদপুর ইউপির মনিরামপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ফিরোজ কবির ওই কলেজছাত্রীর প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে মামা। ফিরোজ কবির প্রায় ভালোবাসার প্রস্তাব দিতো। একপর্যায়ে ভালোবাসায় রাজি হয় ওই কলেজছাত্রী। প্রেম ভালোবাসা চলার সময় একপর্যায়ে ছাত্রীটি ফিরোজ কবিরের বাড়িতে টিভি দেখতে যেত। সেই সুযোগে ফিরোজ ওই মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

সবশেষে ১০ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ফিরোজ কবিরের বাড়িতে টিভি দেখতে গেলে কলেজছাত্রীকে আবার ধর্ষণ করে। পরে ফিরোজ কবিরকে বিয়ের কথা বলে মেয়েটি। কিন্তু ফিরোজ কবির তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এমনকি তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখায়। তখন ছাত্রীটি তার পরিবারের কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ করে। পরে ওই  ছাত্রীর  বাবা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় ফিরোজ কবিরকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগ করে একটি মামলা করে।

অভিযুক্ত ফিরোজ কবিরের পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, অভিযোগকারী ছাত্রীর সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক ছিল। তারা প্রায় টাকা ধার নিত এবং সময় মতো ফেরত দিতো। তবে কিছু দিন আগে তাদের জমি বিক্রি করার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নেয়। পরে তা অস্বীকার করার কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। টাকার বিষয় নিয়ে গ্রামে সালিশের ব্যবস্থা করা হলে কলেজছাত্রীর পরিবারের লোকজন তর্কবিতর্ক করে চলে যায়। পরে তারা আমাদেরকে সুদের ব্যবসায়ী বলে পাঁচজনের নামে মিথ্যা মামলা দেয়। এমনকি আমাদের ছেলে ফিরোজ কবিরকে ফাঁসানোর জন্য মেয়েটি ধর্ষণ মামলা দিয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান জানান, ধর্ষণের মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই আব্দুস সালামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন এবং আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

এসআই আব্দুস সালাম বলেন, ধর্ষণের মামলাটির তদন্তের দায়িত্বভার আমাকে দেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে মেয়েটির মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে তবে এখনো রিপোর্ট আমি পাইনি। আসামি ঢাকায় পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ