অবশেষে ১২ বছর পর মিলল ময়নার খোঁজ

অবশেষে ১২ বছর পর মিলল ময়নার খোঁজ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৩৭ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:২৫ ২১ অক্টোবর ২০২০

ময়না বেগম-সংগৃহীত ছবি।

ময়না বেগম-সংগৃহীত ছবি।

২০০৬ সালে সংসারে অভাব-অনটনের কারণে একমাত্র মেয়ে ময়নাকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠান বাবা ইউনুস ব্যাপারী। সাভারের ভাড়া বাসায় থাকা মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের কাছে দুই মাস ভালোই ছিলেন ময়না। মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারসহ তার স্বজনদের নিয়মিত নির্যাতন সইতে না পেরে ২০০৮ সালে পালিয়ে যান ময়না। এরপর নিখোঁজ ময়নার সন্ধানে অনেক খোঁজাখুঁজি হয়েছে। অবশেষে ১২ বছর পর মিলেছে ময়নার খোঁজ।

ময়না বেগম শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নাজিমপুর গ্রামের ইউনুস ব্যাপারীর মেয়ে। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়নার বাবা ইউনুস ব্যাপারী বাদী হয়ে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ করে পাচারের মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় মোসলেম উদ্দিন, শিরিয়া, মুনমুন আক্তার ও দুলাল খানকে।

মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের মূল বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দীগম্বরপট্রি গ্রামে। মোসলেম উদ্দিন তার ঢাকার সাভারের ভাড়া বাসার কাজের জন্য ময়নাকে নিয়েছিলেন।

ময়না বেগমের দাবি, ১১ বছর বয়সে তার বাবার পরিবারে অনেক অভাব-অনটন ছিল। মোসলেম উদ্দিন তার সাভারের ভাড়া বাসায় এক হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজে নেন ময়নাকে। দুই মাস ভালোভাবে চলার পর মোসলেম উদ্দিন, তার স্ত্রী শিরিয়া, মেয়ে মুনমুন ও শ্যালক দুলাল তুচ্ছ কারণে তাকে মারধর করতো। কাজে নেয়ার চার মাস পর মা-বাবার সঙ্গে মোবাইলে একবার কথা বলতে দিয়েছিল তারা। আর যোগাযোগ করতে দেয়নি।

ময়নার ভাষ্য, একদিন ওই বাসার মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যান। স্কুল ছুটি হওয়ার পর মেয়েটি তাকে রেখে বাসায় চলে এসেছিল। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর মোসলেম উদ্দিন, শিরিয়া, মুনমুন ও দুলাল লাঠি দিয়ে তাকে ইচ্ছা মতো মারধর করেন। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে পরদিন (২০০৮ সালের ২১ ডিসেম্বর) ওই বাসা থেকে পালিয়ে যান। তবে বাড়ির ঠিকানা বলতে না পারায় সাভার থেকে একটি বাসে উঠেন।

কয়েকটি বাস ঘুরে রাজবাড়ীতে পৌঁছান তিনি। সেখানকার একটি বাসস্ট্যান্ডে বসে কাঁদছিলেন। হঠাৎ এক বৃদ্ধ তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। তাকে বাবাও ডাকতেন ময়না। সেই বাসায় কাজও করতেন। তিন বছর পর রাজবাড়ীর সেনগ্রামের মাসুদুর রহমানের সঙ্গে ময়নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী হন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজবাড়ী থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বেড়াতে আসলেই রাতে ময়নাসহ তার ছেলে মনির হোসেন মুন্না ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। 

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২১ ডিসেম্বর ময়না নিখোঁজের পর পরিবার তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে। পরে না পেয়ে ২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়নার বাবা ইউনুস ব্যাপারী বাদী হয়ে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ করে পাচারের মামলা করেন। মামলায় মোসলেম উদ্দিন, শিরিয়া, মুনমুন আক্তার ও দুলাল খান জেল খেটে জামিনে আছেন।

নড়িয়া থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ অক্টোবর রাতে নড়িয়া বিঝারী গ্রামের কাঞ্চনপাড়া থেকে ১২ বছর আগে সাভার থেকে নিখোঁজ ময়নাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়া মেয়ে ময়নার দুই শিশুকেও উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন নিরপরাধ মানুষ ১০ বছর ধরে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ