বেকার রায়হানকে দিনের পর দিন খোঁটা দিতেন ভাই-ভাবি, ক্ষোভে চারজনকেই হত্যা

বেকার রায়হানকে দিনের পর দিন খোঁটা দিতেন ভাই-ভাবি, ক্ষোভে চারজনকেই হত্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪০ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:০৪ ২১ অক্টোবর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে নিহত শাহিনুলের ছোট ভাই রায়হানুল। খাবার ও টিভি দেখা নিয়ে খোঁটা দেয়ায় কোমল পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে চেতনানাশক খাওয়ানোর পর ভাই-ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিকে গলা কেটে হত্যা করে সে।

বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি ওমর ফারুক। রায়হানের দেয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালে উদ্ধার করেছে সিআইডি।

এডিশনাল ডিআইজি ওমর ফারুক জানান, রায়হানুল বর্তমানে বেকার। বেশ কিছুদিন তার কোনো আয়-রোজগার ছিল না। ৯-১০ মাস আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। সেই থেকে সে বড় ভাই শাহিনুলের পরিবারের সঙ্গে থাকতো, সেখানেই খাওয়া-দাওয়া করতো। কিন্তু বেকার হওয়ায় খাবার নিয়ে তার ভাবি সাবিনা খাতুন প্রায়ই তাকে খোঁটা দিতো। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় রায়হান। ১৪ অক্টোবর রাতে ফার্মেসি থেকে ঘুুমের ওষুধ ও স্পিড (কোমল পানীয়) কিনে আনে। এরপর ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিকে খাওয়ায়। ওই রাতে রায়হানুল টিভিতে আইপিএল খেলা দেখছিলো। এ সময় শাহিনুল তাকে বকাঝকা করে বলেন- তুই বিদ্যুৎ বিল দিস? টিভি দেখছিস কেন?। এরপর সে ভাইকে বলে- এ মাসের বিদ্যুৎ বিল আমি দেব, তুমি স্পিড খাও।

তিনি আরো জানান, সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর রায়হান চিলেকোঠা দিয়ে বড় ভাইয়ের ঘরে ঢুকে প্রথমে ঘুমন্ত ভাইকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে পাশের ঘরে থাকা ভাবিকেও একইভাবে হত্যা করে। ওই সময় ভাবি চিৎকার দিলে ভাতিজা-ভাতিজি উঠে যায়। তখন বাধ্য হয়ে তাদের হত্যা করে রায়হান। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

এডিশনাল ডিআইজি জানান, রায়হানুলের দেয়া তথ্যে বুধবার পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার খলসি গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী শাহিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে মাহি ও মেয়ে তাসনিমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তবে, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ৪ মাস বয়সী শিশু কন্যা মারিয়া। ওইরাতে শাহিনুলের শাশুড়ি ময়না খাতুন কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। পরে এ ঘটনায় নিহত শাহিনুলের ভাই রায়হানুলকে গ্রেফতার করে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে সিআইডি। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে হত্যার দায় স্বীকার করে রায়হানুল ইসলাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর