স্বর বদলে নারীকণ্ঠে প্রতারণা, ভিডিও-তে দেখালো প্রতারক মাসুদ

স্বর বদলে নারীকণ্ঠে প্রতারণা, ভিডিও-তে দেখালো প্রতারক মাসুদ

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০২ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:০১ ২১ অক্টোবর ২০২০

নারী সেজে ফেসবুকে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতো আটক প্রতারক মাসুক মিয়া ওরফে মাসুদ। মোবাইল নম্বর বা ম্যাসেঞ্জারে গলার স্বর বদলে নারীকণ্ঠে পুরুষদের পটানোর মধুর আলাপ জমাতে পারতো সে। আটকের পর নারীকণ্ঠে প্রতারণার কৌশল র‌্যাবকে দেখিয়েছে মাসুদ। মাসুদের প্রতারণার কৌশলের একটি ভিডিও ডেইলি বাংলাদেশের হাতে এসেছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী থানার পৌরসভা বাজার থেকে মাসুদকে আটক করে র‌্যাব।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ৪-এর সিনিয়র এএসপি মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, আটক মাসুদ গলার স্বর পরিবর্তন করে নারীকণ্ঠে কথা বলতে পারে। সে নিপুণ অভিনয়ে পারদর্শী। কখনো প্রবাসী নারী, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো মেয়ের মা-বোন সেজে অভিনয় করে কথা বলতো। ফেসবুকে সুন্দর তরুণীর ছবি দেখে অনেকেই তাকে আসল মেয়ে হিসেবে বিশ্বাস করতেন। সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে অভিনব কৌশলে বিকাশের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক মাসুদ।

অভিনব কৌশলের ব্যাপারে সিনিয়র এএসপি মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, সুন্দরী মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে মাসুদ। সেই ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ করা হয়। এ আমন্ত্রণে সাড়া দিলেই মোবাইল নম্বর দেয়া-নেয়া হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে নারীকণ্ঠে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ, আবার বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ ছাড়িয়ে হয় প্রেমের সম্পর্ক। এক পর্যায়ে প্রেমিক বা বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে প্রতারক মাসুদ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে দুর্ঘটনা আবার কখনো হাসপাতালে ভর্তির কথা প্রেমিক বা বন্ধুকে জানায় মাসুদ। বিল পরিশোধ বা দুর্ঘটনায় শিকার ব্যক্তির সঙ্গে মিটমাট করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজনের কথাও জানায়। কিন্তু এতো টাকা সঙ্গে নেই বলে বন্ধুর কাছে টাকা ধার চায় সে।

ভালোবাসার টানে সরল বিশ্বাসে বিকাশের মাধ্যমে সেই টাকাও পাঠিয়ে দেন বন্ধুও। তারপর থেকেই যোগাযোগ বন্ধ। ধরা পড়ে যাওয়া এড়াতে কখনো এ প্রতারক ভিডিও কলে কথা বলতো না।

এএসপি জিয়াউর জানান, সোনিয়া আক্তার কেয়া নামে ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলে প্রতারক মাসুক মিয়া। তানজিম মেহেজাবিন খান স্নেহা নামে এক মেয়ের ছবি ওই ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করতো সে। নিজেকে লন্ডনপ্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ছেলেদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতো।

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করলেই কখনো ম্যাসেঞ্জারে, কখনো মোবাইলে নারীকণ্ঠে কথা বলতো। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে প্রতারণা করে নিরীহ ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতো সে। এখন পর্যন্ত ১৫-২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে মাসুদ। কিন্তু র‌্যাবের চৌকস দলের চোখ এড়াতে পারেননি এ প্রতারক। অবশেষে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ