বগুড়ায় আবেদনেও মিলেনি পূজার অনুদান, ‘অবরুদ্ধ’ ইউএনও

বগুড়ায় আবেদনেও মিলেনি পূজার অনুদান, ‘অবরুদ্ধ’ ইউএনও

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০১ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:০৬ ২১ অক্টোবর ২০২০

হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা ইউএনওকে অবরুদ্ধ করেছেন

হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা ইউএনওকে অবরুদ্ধ করেছেন

সনাতন ধমাবলম্বী নাগরিকদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদানের আবেদন করেও পাননি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা। এ কারণে তারা ইউএনওকে অবরুদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে টাকা না পাওয়ার শত শত মানুষ উপজেলা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধনও করেছেন।

বুধবার বেলা ১১টা থেকে পৌনে ১২ টা পর্যন্ত উপজেলার মানিকদ্বীপা হিন্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় ইউএনও মাহমুদা পারভীন গাড়ি নিয়ে বের হতে চাইলে সেই গাড়ি আটকে দেন তারা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় একমাস আগে ইউএনওর কাছে আবেদন করেছিলেন উপজেলার রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজা উদ্যোক্তা কমিটি। কিন্তু ইউএনও মাহমুদা পারভীন তাদের আবেদন আমলে নেননি। এতে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার ইউএনওর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।

জানতে চাইলে ইউএনও মাহমুদা পারভীন ডেইলি বাংলাদেশকে  বলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ তাদের পূজা মণ্ডপের তালিকা আমাদের কাছে দিয়েছিল। সেখানে ৫৩ টি মণ্ডপের নাম ছিল। ওই ৫৩ মণ্ডপকে সরকারি অনুদান দেয়া হয়েছে। আর তালিকা তৈরি করে উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদ। সেই তালিকায় কেন এই নামটি নেই, তা আমি বলতে পারব না।

তিনি আরো বলেন, রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে নতুন করে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। এখন জেলা প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত দিবে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তারপরও আজ কেন তারা এমন করলেন, এই বিষয়ও আমার জানা নেই।

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নীরন্দ মহন সাহা বলেন, আমাদের তালিকায় রাধা গোবিন্দ মন্দির ছিল না। ওই মন্দিরে পূজা উদযাপন কমিটি সরকারি অনুদানের জন্যে আবেদন করছিল, তার আমরা তিনদিন আগে জানতে পেরেছি। তবে এখন ওই মন্দিরকে তালিকায় নেয়া হয়েছে। এবার শাজাহানপুরে এই মন্দিরসহ ৫৪টি মন্দিরে পূজা উদযাপন হবে।

তিনি জানান, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ওই মন্দিরটিকে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার জন্যে। আশা করা যাচ্ছে তারা অনুদান পাবেন।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে দেখা যায় পূজার অনুদান না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে কিছু গ্রামবাসী অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবকি করা হয়েছে। তবে তারা অনুদান পাবেন বলে জানা গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম