এক থ্রি-পিসেই ভাঙলো নারীর সংসার, ব্যবসায়ীর পৌনে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

এক থ্রি-পিসেই ভাঙলো নারীর সংসার, ব্যবসায়ীর পৌনে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৮ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৫ ২২ অক্টোবর ২০২০

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বালিয়া গ্রামের মো. রতন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে থ্রি-পিসের ব্যবসা করেন। তার শ্বশুরবাড়ি পার্শ্ববর্তী কাউলজানি ইউপির বাদিয়াজান গ্রামে। ওই গ্রামের পরিচিত এক নারীর কাছে এক হাজার টাকা বাকিতে থ্রি-পিস বিক্রি করেন তিনি।

সেই টাকা আনতে গিয়েই ফাঁসলেন রতন। টাকা তো পেলেনই না, উল্টো ওই নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে গুণতে হলো ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা। স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়েছে ওই নারীকেও।

সোমবার বিকেলে বাদিয়াজান গ্রামের খালেক পীরের বাড়িতে সালিস বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় মাতব্বররা।

সালিস বৈঠকের ছবি

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, অনলাইনে কাপড় নিছিলাম। কাপড়ের টাকার জন্যই আসছিলো রতন। ঘরের ভেতরেও আসে নাই, দরজার কাছে ছিল। আমার দেবর তাকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। এরপর অনেকবার ডাকলেও সে দরজা খোলে নাই। সারারাত আমাকে ও রতনকে এক ঘরে আটকে রেখেছে। সকালে বাড়ির সবাইকে ডেকে এনে একটা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমার সংসার ভেঙেছে।

তিনি বলেন, আমার ভুল ছিল- আমি বাড়ির কাউকে না জানিয়ে রতনকে রাতে টাকা দেয়ার জন্য আসতে বলেছি। এ ঘটনা না ঘটলে তো আমার সংসার ভাঙতো না। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চাপ দিয়ে আমাকে তালাক দিতে বাধ্য করেছে। আমার বিরুদ্ধে স্বামীর পাঠানো ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

ওই নারী আরো বলেন, আমার সঙ্গে রতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। সে আমাকে ধর্ষণ করেনি, শরীরে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি। সারারাত সে নিচে ছিলো, আমি খাটের উপরে ছিলাম।

ভুক্তভোগী রতন জানান, কাজ শেষে রোববার রাতে তিনি ওই নারীর বাড়িতে যান। এরপরই ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে আটকে সালিস বৈঠক ডাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর