ফেসবুকে সুন্দরী নারী সেজে ফাঁদ, অভিনব কৌশলে প্রতারণা

ফেসবুকে সুন্দরী নারী সেজে ফাঁদ, অভিনব কৌশলে প্রতারণা

নরসসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:০৮ ২১ অক্টোবর ২০২০

ফেসবুকে সুন্দরী নারী সেজে ফাঁদ, অভিনব কৌশলে প্রতারণা- সংগৃহীত ছবি।

ফেসবুকে সুন্দরী নারী সেজে ফাঁদ, অভিনব কৌশলে প্রতারণা- সংগৃহীত ছবি।

ফেসবুক প্রোফাইলের আকর্ষণীয় নাম সোনিয়া আক্তার কেয়া। প্রোফাইলে পোস্ট হচ্ছে সুন্দরী তরুণীর ছবি। লন্ডন প্রবাসী পরিচয়ে পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরু। বন্ধুত্ব থেকে তৈরি হয় আরো গভীর সম্পর্ক। পরে অভিনব কৌশলে পুরুষদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা। এমনি প্রতারণায় জড়িত এক প্রতারককে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী থানার পৌরসভা বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের নাম মাসুক মিয়া ওরফে মাসুদ।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ৪-এর সিনিয়র এএসপি মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, আটক মাসুদ গলার স্বর পরিবর্তন করে নারীকণ্ঠে কথা বলতে পারেন। তিনি নিপুণ অভিনয়ে পারদর্শী। কখনো প্রবাসী নারী, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো মেয়ের মা-বোন সেজে অভিনয় করে কথা বলতেন। ফেসবুকে সুন্দর তরুণীর ছবি দেখে অনেকেই তাকে আসল মেয়ে হিসেবে বিশ্বাস করতেন। সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে অভিনব কৌশলে বিকাশের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক মাসুদ।

অভিনব কৌশলের ব্যাপারে সিনিয়র এএসপি মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, সুন্দরী মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেন মাসুদ। সেই ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ করা হয়। এ আমন্ত্রণে সাড়া দিলেই মোবাইল নম্বর দেয়া-নেয়া হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে নারীকণ্ঠে বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ, আবার বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ ছাড়িয়ে হয় প্রেমের সম্পর্ক। এক পর্যায়ে প্রেমিক বা বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে প্রতারক মাসুদ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে দুর্ঘটনা আবার কখনো হাসপাতালে ভর্তির কথা প্রেমিক বা বন্ধুকে জানান মাসুদ। বিল পরিশোধ বা দুর্ঘটনায় শিকার ব্যক্তির সঙ্গে মিটমাট করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজনের কথাও জানান। কিন্তু এতো টাকা সঙ্গে নেই বলে বন্ধুর কাছে টাকা ধার চান।

বন্ধুও ভালোবাসার টানে সরল বিশ্বাসে বিকাশের মাধ্যমে সেই টাকাও পাঠিয়ে দেন। তারপর থেকেই যোগাযোগ বন্ধ। ধরা পড়ে যাওয়া এড়াতে কখনো এ প্রতারক ভিডিও কলে কথা বলতেন না।

এএসপি জিয়াউর জানান, সোনিয়া আক্তার কেয়া নামে ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলেন প্রতারক মাসুক মিয়া। তিনি তানজিম মেহেজাবিন খান স্নেহা নামে এক মেয়ের ছবি ওই ফেসবুক প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করেন। নিজেকে লন্ডনপ্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ছেলেদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। 

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করলেই কখনো ম্যাসেঞ্জারে, কখনো মোবাইলে নারীকণ্ঠে কথা বলতেন। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে প্রতারণা করে নিরীহ ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১৫-২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু র‌্যাবের চৌকস দলের চোখ এড়াতে পারেননি প্রতারক মাসুদ। অবশেষে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে।

নারী সেজে মাসুদের প্রতারণার ভিডিও দেখুন

 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ