রুটিন অনুযায়ী প্রতি রাতে ছাত্রদের বলাৎকার করেন তিনি

রুটিন অনুযায়ী প্রতি রাতে ছাত্রদের বলাৎকার করেন তিনি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৪ ২০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:১৫ ২০ অক্টোবর ২০২০

গ্রেফতার নাছির

গ্রেফতার নাছির

ক্লাস কিংবা পরীক্ষার জন্য রুটিন করেন শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক শিক্ষকও এ রুটিন অনুযায়ী চলেন। কিন্তু চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার এক কওমি মাদরাসাশিক্ষক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ওরফে নাছির হুজুর ভিন্ন ধরনের রুটিন চালু করেছেন। যে রুটিনে কোন রাতে কোন ছাত্রকে বলাৎকার করা হবে তা উল্লেখ রয়েছে। আর সেই রুটিন মাফিক প্রতি রাতে ছাত্রদের বলাৎকার করেন তিনি।

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউপির শাহ আহমদীয়া আজিজুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ছোট্ট ছেলেদের প্রতি প্রবলভাবে যৌনাসক্ত। এ যৌন কামনা চরিতার্থ করতে তিনি প্রতি রাতে নতুন নতুন শিশু ব্যবহার করছেন। কোনো ছাত্র রাজি না হলে বা প্রতিবাদ করলেই তাকে নির্যাতন করা হয়। নানা অজুহাতে ক্রমাগত মারধরের শিকার হওয়ার পর বাধ্য হয়েই হুজুরের শয্যাসঙ্গী হতে রাজি হতো ছাত্ররা। এভাবে দীর্ঘদিন শিশুদের বলাৎকারের পর মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার বিকৃত রুচির এসব অপরাধকাণ্ড অকপটে স্বীকার করেন মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ওরফে নাছির হুজুর।

নাছির উদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ছোট বেওলা গ্রামে। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। তিনি বছর দুয়েক আগে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া এলাকায় এ মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

সোমবার রাতে বেশ কয়েকজন অভিভাবক তাদের শিশুসন্তানকে বলাৎকারের বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পরে চট্টগ্রামের এএসপি (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে রাতভর অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে অভিযুক্ত নাছিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, যৌন কামনার দিক থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ছেলেশিশুদের প্রতি দুর্বল নাছির। পাঁচ বছর আবুধাবির দুবাই থাকার পর মূলত এ শিশু বলাৎকারে আসক্তিই তাকে মাদরাসা শিক্ষকতার পেশায় টেনে আনে। শিক্ষকতায় নিয়োজিত থেকে অদ্ভুত উপায়ে তিনি তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে চলেন। এমনকি তিনি রুটিনের মতো করে রাখেন, কে কবে তাকে বিছানায় সময় দেবে। তার ছেলেশিশু আসক্তির এ বিকৃত রুচির কথা জানতে পেরে ২০১৮ সালে তার স্ত্রী একমাত্র সন্তানসহ তাকে ছেড়ে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশুর মা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে আলেম বানানোর উদ্দেশ্যে ছেলেকে মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছিলাম। গার্মেন্টসে চাকরি করে বহু কষ্টে ছেলের পড়ালেখার খরচ দেই। কিন্তু মানুষরূপী এ শয়তান আমাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। তাকে মেরে ফেলা উচিত। সে মানুষ না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর