রায়হান হত্যাকাণ্ড: কনস্টেবল টিটু গ্রেফতার

রায়হান হত্যাকাণ্ড: কনস্টেবল টিটু গ্রেফতার

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২০ ২০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪১ ২০ অক্টোবর ২০২০

ইনসেটে রায়হান

ইনসেটে রায়হান

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান হত্যা মামলায় বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

মঙ্গলবার দুপুরে এসএমপি’র রিজার্ভ অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই সিলেটের এসপি খালেদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার টিটু চন্দ্রকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি এসএমপির হেফাজতে ছিলেন।

এর আগে, ১১ অক্টোবর সকালে রায়হান হত্যার ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই কুতুব, কনস্টেবল সজিব ও টিটু চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া আরো তিনজনকে প্রত্যাহর করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে এসআই আকবর এখনো পলাতক। এএসআই কুতুব, কনস্টেবল সজিব ও টিটু চন্দ এসএমপি রিজার্ভ অফিসে কড়া নিরাপত্তা হেফাজতে ছিলেন।

১০ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন করা হয় নগরীর নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হানকে। ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রোববার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। 

সেদিন বিকেলে ডাক্তারের চেম্বারের কম্পাউন্ডার হিসেবে কর্মরত তার স্বামী রায়হান বসা থেকে বের হয়ে আসেন। রাত ১০টা থেকে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ৪টা ৩৩ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মাকে কল করে কথা বলেন। ওই কলে রায়হান কাঁদতে কাঁদতে জানান যে, তাকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রেখেছে এবং টাকা না দিলে ছাড়বে না। এরপরই ভোর সাড়ে ৫টায় পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে রায়হানের চাচা হাবিব উল্লাহ ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ তাকে ৯টার সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলেন। তিনি ৯টায় টাকা নিয়ে গেলে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজে যেতে বলা হয়। 

হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের চাচা জানতে পারেন, ৭টা ৪০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে পুলিশ ছিনতাই করতে গিয়ে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালায়। মামলায় নিহতের স্ত্রী উল্লেখ করেন, বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনেই রায়হান মারা যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর