বনিবনা না হওয়ায় মাকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারলেন ছেলে

বনিবনা না হওয়ায় মাকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারলেন ছেলে

নোয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৩ ১৯ অক্টোবর ২০২০  

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহতরা চিকিৎসাধীন

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহতরা চিকিৎসাধীন

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সৎ মা ও ছেলের পারিবারিক কলহের জেরে বসতঘরে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার কালাদরাপ ইউপির রামহরিতালুক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় অগ্নিসংযোগকারী ছেলে ও সৎ মা দগ্ধ হয়েছেন। পরে সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে সৎ মা আসমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। 

মৃত আসমা বেগম স্থানীয় এলাকার প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী।

অগ্নিদগ্ধরা হলেন, অগ্নিসংযোগকারী কামাল উদ্দিন, প্রতিবেশী তারেক, সুমন, মান্না ও কবির হোসেন। তাদের মধ্যে কামাল, আসমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য ৩ জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রামহরিতালুক গ্রামের প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আসমা বেগম নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে ইসমাইলের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ইসমাইলের প্রথম স্ত্রীর ছেলে-মেয়েদের বনিবনা না হওয়ায় কিছুদন আগে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। 

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহতরা চিকিৎসাধীনসোমবার দুপুরে ইসমাইলের বড় ছেলে কামাল উদ্দিন ওই বাড়িতে গেলে সৎ মায়ের সঙ্গে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরের একটি কক্ষে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করেন কামাল। এ সময় কামালসহ কক্ষে থাকা তার সৎ মা ও প্রতিবেশীরা দগ্ধ হন।

পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আসমা ও কামালকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসমা বেগম মারা যান। 

সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন জানান, পরিবারের লোকজন আসমা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। এ ঘটনায় অগ্নিসংযোগকারী কামালের শ্যালক তারেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম