শ্যালিকাকে ধর্ষণ, বেরিয়ে এলো সেই দুলাভাইয়ের চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য

শ্যালিকাকে ধর্ষণ, বেরিয়ে এলো সেই দুলাভাইয়ের চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০২ ১৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:০৩ ১৯ অক্টোবর ২০২০

নিজের ব্যবহৃত গাড়ির পাশে মুন্না খান

নিজের ব্যবহৃত গাড়ির পাশে মুন্না খান

নিজের শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মুন্না খান নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১১ অক্টোবর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনদিনের রিমান্ডে রয়েছেন তিনি।

এ মামলায় মুন্না ছাড়াও অন্যরা হলেন- সদর উপজেলার মনিরুল, শহরের বটতলা এলাকার রেজাউল হক রাতুল ও নকলা চন্দ্রকোণা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে জিসান যুবায়ের পলক। তবে তারা এখনো গ্রেফতার হননি।

এদিকে, ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে রাজি হননি ভুক্তভোগী শ্যালিকা। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে, ডাক্তারি পরীক্ষা না করালেও সমস্যা নেই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার সময় ধর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে বলেও জানায় পুলিশ।

শ্যালিকার সঙ্গে এমন কাজ করায় হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া আলোচিত এই মুন্না খানকে নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরইমধ্যে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য।

২৮ বছর বয়সী মুন্না খান শেরপুর সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুস সামাদ খানের ছেলে। মুন্নার আরো দুই বোন রয়েছেন। তবে তিনি সবার ছোট।

২০০৯ সালে মাধ্যমিক পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হলেও এইচএসসি পাস করা হয়নি মুন্নার। সংসারের হাল ধরতে তিনি ২০১২ সালের দিকে দৈনিক ৫০ টাকা মজুরিতে কাজ নেন শহরের একটি কম্পিউটারের দোকানে। পরে বেশ কিছুদিন শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কম্পিউটারে দলিল লেখার কাজ করেন। এরপর চলে যান ঢাকায়। শুরু হয় মুন্না খানের উত্থান। এলাকায় এখন আঙুল ফুলে কলা গাছ সেই মুন্না। তার হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া রহস্যজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

অল্পদিনের মধ্যে এ যুবকের হঠাৎ কোটিপতি বনে যাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের রয়েছে নানা কথা। পুলিশের কাছে মুন্না বলেছেন, সে সফটওয়্যার প্রকৌশলী। কিন্তু তার বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী বলেছেন, তিনি এসএসসি পাস করেছেন। তবে কম্পিউটারের ভালো ব্যবহার জানেন মুন্না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মুন্না আন্তর্জাতিকমানের একজন হ্যাকার। মানুষের অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ নম্বর থেকে প্রযুক্তির ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার আয়ের উৎস। আবার অনেকে বলেছেন, ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত মুন্না। শহরের দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে মুন্নার অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, ব্যাংক হিসাবে মুন্নার সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক লেনদেন হয়। কোথা থেকে টাকা আসে কেউ জানেন না। এমন অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে কয়েকবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রশ্নের মুখেও পড়েছেন মুন্না। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মুন্নার ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট, ময়মনসিংহে একটি বাড়ি করার জমি ও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

সম্পতি মুন্না শেরপুর শহরের রাজবল্লবপুর এলাকায় ৭২ লাখ টাকায় বাড়িসহ পাঁচ শতাংশ জমি কেনেন। শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংলগ্ন তিন কাঠা জমি কেনেন অর্ধকোটি টাকায়। পরিবার ও নিজের ব্যবহারের জন্য রয়েছে দুটি বিলাশবহুল গাড়ি। যার মূল্য সোয়া কোটি টাকার ওপরে। এছাড়া সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার একটি ও পৌনে তিন লাখ টাকার অন্তত তিনটি মোটরসাইকেল রয়েছে। কয়েক বছর ধরে মুন্নার চলাফেরা অনেকটা জমিদারি স্টাইলের।

স্থানীয়দের দাবি, নিম্ন মধ্যবিত্ত আব্দুস সামাদ খানের নুন আনতে পান্তা ফুরানো একটি পরিবার। অত্যন্ত সরল জীবনযাপন করেন মুন্নার বাবা। কিন্তু এত অল্প সময়ে অধিক সম্পদের মালিক মুন্নার টাকা কোথা থেকে কীভাবে এলো, তা তদন্ত করে দেখা হোক।

মুন্নার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুস সামাদ বলেন, ছেলের ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কোথা থেকে টাকা আসে আমি জানি না।

শেরপুর সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ধর্ষণসহ সব বিষয়েই গুরুত্বের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজনে মুন্নাকে আবারো রিমান্ডে নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর