রং তুলির আঁচড়ে সাজছে দেবী দুর্গা

রং তুলির আঁচড়ে সাজছে দেবী দুর্গা

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৮ ১৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:২১ ১৯ অক্টোবর ২০২০

রং তুলির আঁচড়ে সাজছে দেবী দুর্গা

রং তুলির আঁচড়ে সাজছে দেবী দুর্গা

আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে রং তুলির আঁচড়ে সাজছে দেবী দুর্গা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সিরাজগঞ্জে পালপাড়াতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

এরমধ্যে সিরাজগঞ্জের বেশির ভাগ প্রতিমা তৈরির অবকাঠামোর কাজ শেষ। শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে দিনরাত রং-তুলির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। জেলার পূজা মন্ডপগুলোতেও কাজ শেষের দিকে। যদিও এবার আলোক সজ্জার কোনো আয়োজন নেই, তবুও আয়োজনের কোনো কমতি থাকছে না। এবার জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ৪৭০টি মন্ডপে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিনে গিয়ে জেলার বিভিন্ন পালপাড়ায় দেখা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিমার অর্ডার অনেকটাই কমে গেছে। জেলার সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজিপুর, ও চৌহালীর বিভিন্ন পূজামন্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিতে দিনরাত রং-তুলির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। খড় আর কাঁদামাটির প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুরু হয়েছে রং তুলির কাজ। রং তুলিতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমার সৌন্দর্য। তবে অসুর নাশিনীর দেবী দুর্গাকে নানা রঙে রাঙালেও প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিমা তৈরির কারিগররা। 

পঞ্জিকা মতে আগামী রোববার (২২ অক্টোবর) শুরু হয়ে ৫ দিনব্যাপী চলবে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিমা শিল্পীরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে রং তুলির কাজ করছেন। প্রতিটি পূজা মন্ডপের জন্য তৈরি হচ্ছে দুর্গা, শরস্বতী, লক্ষ্মী, গনেশ, কার্তিক, অসুর, সিংহ, হাঁস, পেঁচা, সর্পসহ বিভিন্ন প্রতিমা।

কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর গুপিনাথ পাল বলেন,  প্রতি বছর ২০/২৫টি প্রতিমা তৈরি করে থাকি। কিন্তু এ বছর মাত্র ১৫টি প্রতিমার কাজ করছি। এ বছর আমাদের অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে করোনা। ১৫টি প্রতিমার মধ্যে এখনো ১ সেট প্রতিমা বিক্রি করতে পারিনি। এখানেও আমাদের অনেকটাই লোকসান গুনতে হবে। আমি নিজেও বাবা-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায়
৪০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন এর আগে হতে হয়নি। 

রণজিত পাল ও সুভাষ পালসহ প্রতিমা শিল্পীরা বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, খড় ও সুতলি-রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো প্রতিমা তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার পূজা মন্ডপের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের প্রতিমাগুলোও বিক্রি কমে গেছে।

তারা আরো বলেন, সিরাজগঞ্জের তৈরি প্রতিমা বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হতো। কিন্তু করোনার প্রভাবে আমরা এই অর্ডারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

রং তুলির আঁচড়ে সাজছে দেবী দুর্গাজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে বরণ করতে প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি শেষপর্যায়ে। করোনার কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। শুধু সাজসজ্জার সামান্য কাজ বাকি। সামনে যে সময় আছে তাতে আমরা সময়মতো সব কাজ শেষ করতে পারবো। এ বছর সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার প্রায় ৪৭০টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। সব মিলিয়ে এবারের পূজা আনন্দঘন ও জাঁকজমকভাবে শেষ হবে বলে আশাবাদী।

সিরাজগঞ্জ এসপি হাসিবুল আলম (বিপিএম) জানান, এবারের পূজায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আনন্দ মুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্টিত হবে।

তিনি আরো জানান, তবে প্রতিটি মন্ডপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সাধ্য অনুযায়ী রাখতে হবে। একসঙ্গে জটলা পাকানো যাবে না, সন্ধ্যা আরতি চলাকালে কোনো উশৃঙ্খল আচরণ করা যাবে না। প্রতিটি পূজা মন্ডপে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও আনসার সদস্যসহ মোবাইলটিম সার্বক্ষণিক পূজা মন্ডপগুলো নজরদারিতে রাখবে। পাশাপাশি সবকটি পূজা মন্ডপে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম