জেলেদের চাল যাচ্ছে মেম্বার-চেয়ারম্যানের ঘরে

জেলেদের চাল যাচ্ছে মেম্বার-চেয়ারম্যানের ঘরে

এইচ.এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪২ ১৯ অক্টোবর ২০২০  

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই তীরে ফিরেছে কক্সবাজার উপকূলের ৬ হাজার মাছ ধরার ট্রলার

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই তীরে ফিরেছে কক্সবাজার উপকূলের ৬ হাজার মাছ ধরার ট্রলার

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য সারা দেশের নদী-সাগরে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই তীরে ফিরেছেন কক্সবাজার উপকূলের লক্ষাধিক জেলে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই চাল পাচ্ছে না অসহায় জেলেরা। তাদের চাল যাচ্ছে স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের ঘরে।

ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, জেলে কার্ড করার জন্য বারবার মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দুয়ারে ধরনা দিলেও কার্ড পাননি তারা। উল্টো জেলে কার্ড করা হয়েছে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নামে। সেই কার্ড দিয়ে জেলেদের চাল তুলে নিচ্ছে তারা।

জেলে নেতা ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, দেশি জেলেরা ঘরে বসে থাকলেও ইলিশ শিকার বন্ধ রাখেনি বিদেশি জেলেরা। প্রতিদিনই বিদেশি জেলেরা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ঢুকে মাছ ধরছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক জেলেকে ২০ কেজি করে ৪শ’ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর নজরদারি থাকবে প্রশাসনের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলে অধ্যুষিত কক্সবাজার উপকূলে জেলেরা তাদের ট্রলার ও নৌকা নিয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরেছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কেউ কেউ নৌকা ও ট্রলার মেরামতেরও উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা অসহায় জেলেদের। দরিদ্র জেলেদের ভাষ্য, সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা তারা ঠিকমতো পায় না। ১ শতাংশ জেলেও সরকারি সহায়তার কার্ড পায় না।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল এলাকার জেলে রহিম বলেন, ২০ কেজি করে চাল দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলে না। দাদনের টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়। আমাদের জন্য বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।

একই এলাকার জেলে সিরাজ বলেন, ২০ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরি। আজ পর্যন্ত বন্ধের সময় কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। জেলে কার্ড করতে গিয়ে কার্ডও করতে পারিনি। প্রকৃত জেলেরা কার্ড পায় না। কার্ড পায় মেম্বার-চেয়ারম্যানদের পরিবার ও স্বজনরা। আমাদের দুঃখ কেউ বোঝে না।

কক্সবাজার অবতরণ কেন্দ্র মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, হাতেগোনা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার এখন সাগরে রয়েছে। বাকি প্রায় ৬ হাজার ট্রলার উপকূলে ফিরে এসেছে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারে নিবন্ধিত ট্রলার সাড়ে ৪ হাজার কিন্তু মাছ ধরতে সাগরে যায় ৬ হাজারের বেশি। এসব ট্রলারে মাছ শিকার করে লক্ষাধিক জেলে কিন্তু নিবন্ধিত জেলে ৪৮ হাজার। ইলিশের এ প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য অধিদফতর, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর