ভালোবেসে ৭ মাস আগে বিয়ে, স্বামীর বাড়িতেই লাশ হলেন শিমু

ভালোবেসে ৭ মাস আগে বিয়ে, স্বামীর বাড়িতেই লাশ হলেন শিমু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৫৫ ১৯ অক্টোবর ২০২০  

নিহত শিমু আক্তার

নিহত শিমু আক্তার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে শিমু আক্তার নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত শিমু আক্তার ওই উপজেলার কাউলজানী চকপাড়া এলাকার রাব্বি মিয়ার স্ত্রী ও একই এলাকার হাসান মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয়রা জানায়, রাব্বির সঙ্গে শিমুর প্রেম ছিল। কিন্তু দুই পরিবার রাজি না হওয়ায় সাত মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করেন ওই প্রেমিক যুগল। এরপর দুই পরিবার বিয়ে মেনে নিয়ে তাদের বাড়িতে তোলে। সেই থেকে তারা সুখেই সংসার করছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাব্বির পরিবার শিমুকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

শিমুর পরিবার জানায়, শনিবার বিকেলেও মারধরের বিষয়টি মা-বাবাকে জানিয়েছে মেয়েটি। এরপর রোববার সকালে তার আত্মহত্যার খবর দেয় রাব্বির পরিবার।

শিমুর বাবা হাসান মিয়া বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার শাশুড়ি ও স্বামী মিলে মারধর করছিল। শনিবারও শিমুকে মারধর করেছে শাশুড়ি বিলকিস বেগম। রোববার সকালে তারা জানায় শিমু ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে আমার মেয়ের লাশ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখি।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে রাব্বি ও তার বাবা-মা। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

ইউপি মেম্বার ইসমাইল হোসেন বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে মেয়েটির বিয়ে হয়। শুনেছি তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এরইমধ্যে প্রাণ দিতে হলো মেয়েটিকে। আমি তার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।

বাসাইল থানার এসআই নূরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর