আইন থাকলেও মানে না কেউ

আইন থাকলেও মানে না কেউ

রিফাত আহমেদ রাসেল, নেত্রকোনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ১৭ অক্টোবর ২০২০  

সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব গাড়ি

সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব গাড়ি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দিনের বেলা লরি গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছেন না কেউ। ফলে বলা চলে আইন থাকলেও এর কোনো তোয়াক্কা করেন না এসব গাড়ির চালকরা।

চলতি মাসের জানুয়ারিতে দুর্গাপুর পৌর শহরে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব ধরনের লরি গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। ঠিক এর দুই মাস পরেই মার্চের দিকে এ আইন সংস্কার করে পুরো উপজেলায় এ বিধানের কার্যকর করা হয়। কিন্তু সড়ক বলছে এর ভিন্ন কথা।

সকাল-বিকেল-রাত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার সব সড়কেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব গাড়ি। যার বেশির ভাগ গাড়ির নেই লাইসেন্স, রোড পারমিট এমনকি চালকদেরও লাইসেন্স নেই।

সোমেশ্বরী নদী থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে তোলা বালু পরিবহনের কাজে মূলত ব্যবহৃত হচ্ছে লরি গাড়িগুলো। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দুর্গাপুর পৌর শহরের বাসিন্দাদের। ছোট ছোট সড়কে অপরিকল্পিতভাবে বালু পরিবহনের ফলে প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে সড়কগুলোতে।

পৌর শহরের উকিলপাড়া, কালিবাড়ি মোড়, কলেজ রোড, হাসপাতাল মোড়, উপজেলা মোড়, প্রেস ক্লাব মোড়, সাধুপাড়া রোডসহ প্রতিটি সড়কেই যেন বালু আর পরিবহন ব্যবসায়ীদের দখলে। ফলে ছোট ছোট যানবাহন আর নাগরিকদের ভোগান্তি প্রতিদিনের চিত্র।

পরিবেশবিদদের মতে, বেপরোয়া লরি গাড়িগুলো একদিকে যেমন নষ্ট করছে পৌর শহরের রাস্তা-ঘাট তেমনি তীব্র শব্দেও দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। এছাড়া নদী থেকে সরাসরি ভেজা বালু পরিবহন করে আনায় শুষ্ক মৌসুমে কাদার জন্য সড়কে চলাচল করতে পারেন না পথচারীরা।

দুর্গাপুর পৌর শহরের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা রীতিমতো বালু ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই নদী থেকে বালু পরিবহন করে প্রায় হাজারো গাড়ি সড়ক দিয়ে চলছে। ফলে দিনে যেমন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারি না তেমনি তীব্র শব্দের কারণে রাতেও ঘুমাতে পারি না।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুরের ইউএনও ফারজানা খানম বলেন, সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আমরা প্রতিনিয়তই ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাচ্ছি। লরি গাড়ি চলাচলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এ আইন কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর