স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে ওসি, দিনের পর দিন চলে ধর্ষণ

স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে ওসি, দিনের পর দিন চলে ধর্ষণ

নীলফামারী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ৭ অক্টোবর ২০২০  

বিয়ের আশ্বাসে সহকর্মীকে ওসির দিনের পর দিন ধর্ষণ। ফাইল ছবি

বিয়ের আশ্বাসে সহকর্মীকে ওসির দিনের পর দিন ধর্ষণ। ফাইল ছবি

নারী সহকর্মীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওসি আবু নাসের রায়হানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ওই নারীকে নানা ধরনের ভয় দেখিয়ে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে ওসি।

মঙ্গলবার দুপুরে  নীলফামারীর সৈয়দপুর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপির কার্যালয়ে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ওই ওসির বিরুদ্ধে ভিকটিমের এমনই অভিযোগ করেন।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর পুলিশ কনস্টেবল পদে নীলফামারী পুলিশ লাইনে যোগ দেন ওই নারী। এরপর থেকেই নীলফামারী রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টর (বর্তমানে বরিশাল ডিআইজি অফিসে ওসি তদন্ত হিসেবে কর্মরত) আবু নাসের রায়হান প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিতো বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে ভিকটিমকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিতেন আবু নাসের রায়হান। এরই একপর্যায়ে ২০১৬ সাল থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। শুধু তাই নয়, তাদের এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আগের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।

স্বামীকে তালাক দেয়ার পরও দীর্ঘদিন বিয়ে না করায় চাপ দিলে একদিন হুজুর প্রকৃতির একজন লোক ডেকে এনে বিয়ে করে। কিন্তু কাজীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করার কথা বললে আবু রায়হান বলেন, আমরাতো আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি, রেজিস্ট্রির প্রয়োজন নেই। এভাবে বিয়ের নামে দীর্ঘদিন থেকে ধর্ষণ করে আসছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন বিয়ে রেজিস্ট্রি করার চাপ দিলে ওসি কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং উল্টো তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে কৌশল করে ভিকটিমকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পুলিশ লাইনে এবং নিজে বরিশাল ডিআইজি অফিসে বদলি হয়ে যান।  

এক পর্যায়ে ভিকটিম প্রথমে বরিশাল ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল ডিআইজি তদন্তের নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার সৈয়দপুর সার্কেল কার্যালয়ে ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডিশনাল এসপি অশোক কুমার পাল জানান, এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে