বর্বর বাবা, নিজেই সর্বনাশ করলেন দুই মেয়ের 

বর্বর বাবা, নিজেই সর্বনাশ করলেন দুই মেয়ের 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৩ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঘটনা শুনে সবাই তাকে একবাক্যে বর্বর বাবাই বললেন। ঘৃণা জানালেন সর্বোচ্চ ধিক্কার দিয়ে। ঘৃণিত এ বাবার নাম  শফিকুর রহমান ওরফে শফিক বৈদ্য। কক্সবাজারের পেকুয়ার পূর্ব টৈটং সোনাইছড়ির এ শফিকুর রহমান ওরফে শফিক বৈদ্যের হাতে দুই মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই দুই মেয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ওসিসিতে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলা হয়েছে।

অভিযুক্তের ছোট স্ত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ির পাশে সেমি পাকা বৈদ্যালির আসন ঘরে রেখে বৈদ্যালি শেখানোর নামে নির্লজ্জ ঘটনাটি ঘটানো হয় বলে মামলার এজাহারে বলা হয়।

অভিযুক্ত শফিকুর রহমান ওরফে শফিক বৈদ্য পেকুয়ার পূর্ব টৈটং সোনাইছড়ি রমিজ পাড়ার নুরুল আনোয়ার প্রকাশ টুনু মিয়ার ছেলে।

বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী বৈদ্যালির নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। আগে তার দুইটি স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তাকে জাদুটোনার মাধ্যমে বশে এনে বিয়ে করে। নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে বেশ কয়েকবার মারধর করে স্বামী শফিক বৈদ্য।

তার অভিযোগ, তার স্বামী কুচরিত্রের লোক। তাই দ্বিতীয় স্ত্রী দুই সন্তানসহ বাঁশখালীতে পালিয়ে যায়। প্রথম স্ত্রীসহ তারা দুইজন অতি কষ্টের মাঝে সাংসারিক দিন পার করছিলেন। ধর্ষিতারা প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে। তারা স্থানীয় একটি মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে।

তার মতে, স্বামী শফিক বৈদ্য দুশ্চরিত্র বলেই নিজের দুই মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।

এদিকে, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ এবং আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও ভিকটিমদেরকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত শফিক বৈদ্য। তারা এখন ঘরছাড়া। অভিযোগ শুনানি শেষে ডাক্তারি পরীক্ষাসহ সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক জেবুন্নাহার আয়েশা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট একরামুল হুদা।

তিনি জানান, নিজের দুই মেয়েকে বৈদ্যালি শেখানোর কথা বলে ধর্ষণ করেছে বাবা৷ এ ঘটনায় মামলা করেছেন তার ছোট স্ত্রী। মামলার পর দুই ভিকটিমসহ নিজের সন্তানদের নিয়ে এলাকাছাড়া তিনি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এএসপি নুরুল আমিন জানান, আদালতের নির্দেশে তদন্তভার নেয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তবে, বিষয়টি জটিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ