রিফাতকে হত্যার জন্য নয়ন বন্ডকে যা বলে উসকে দেন মিন্নি

রিফাতকে হত্যার জন্য নয়ন বন্ডকে যা বলে উসকে দেন মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫২ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

রিফাতকে হত্যার জন্য নয়ন বন্ডকে যা বলে উসকে দেন মিন্নি

রিফাতকে হত্যার জন্য নয়ন বন্ডকে যা বলে উসকে দেন মিন্নি

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ শরীফ ওরফে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনায় ছিলেন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। রিফাতকে হত্যার জন্য কৌশল অবলম্বন করেন তিনি। দ্বিতীয় স্বামীকে হত্যার জন্য উসকে দিতে গোপনে থাকা প্রথম স্বামী নয়ন বন্ডকে কয়েকটি কথা বলেন মিন্নি। এতে অনুপ্রাণিত হয়েই রিফাতকে প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন। মামলাটির তদন্ত করতে গিয়েই খোঁজ মেলে মিন্নির কোন কথায় রিফাতকে খুন করেন নয়ন বন্ড বাহিনী। আর তা রিমান্ডে জানিয়েছিলেন স্বয়ং মিন্নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিফাত হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রিফাত হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে মিন্নি ও নয়ন বন্ডের ব্যবহৃত নম্বরের কললিস্ট এবং এসএমএস কনটেন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ধার করে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে রিফাত শরীফ মারা যাওয়ার পর মিন্নির কাছে একটি এসএমএস পাঠান নয়ন বন্ড। সেই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, ‘আমারে আমার বাপেই জন্ম দেছে।’

তিনি আরো জানান, ‘আমারে আমার বাপেই জন্ম দেছে’- লেখার সূত্র ধরেই মিন্নিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসএমএসের বিষয়ে রিমান্ডে মিন্নি জানান, রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনার সময় নয়ন বন্ডকে চ্যালেঞ্জ দেন মিন্নি। 

নয়ন বন্ডকে মিন্নি বলেন, ‘তুমি যদি রিফাত শরীফকে মারতে পার, তাহলে বুঝবো তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে।’ মূলত চ্যালেঞ্জ পূরণ করেই মিন্নিকে এসএমএসটি পাঠান নয়ন বন্ড।

বুধবার দুপুরে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে খালাসের রায় দেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান। খালাস প্রাপ্তরা হলেন- রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর, কামরুল ইসলাম সায়মুন, মো. মুসা।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ওইদিনই মারা যান তিনি।

ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ