যে কারণে স্বামী রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মিন্নি

যে কারণে স্বামী রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৪ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিহত স্বামীর সঙ্গে মিন্নির ফাইল ছবি।

নিহত স্বামীর সঙ্গে মিন্নির ফাইল ছবি।

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ শরীফ ওরফে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকায় খালাস পেয়েছেন মামলার চার আসামি। এ মামলার চার্জশিটে স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে এসেছিল স্ত্রী মিন্নির নাম। চার্জশিটে হত্যার পরিকল্পনার কারণও উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিট অনুযায়ী, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হত্যার পরিকল্পনাকারী। প্রথমে স্বামী রিফাত হত্যা মামলায় তাকে সাক্ষী রাখা হয়। তবে তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। 

স্ত্রী মিন্নির পরিকল্পনায় আসামি নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী স্বামী রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। রিফাত শরীফ ও নয়ন বন্ডের সঙ্গে দ্বৈত প্রেমের কারণে মনোমালিন্য হওয়ায় এ হত্যার পরিকল্পনা করেন মিন্নি; যা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময় হত্যার অভিযোগ থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য বাঁচানোর নাটক করেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। 

বুধবার দুপুরে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে খালাসের রায় দেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান। খালাস প্রাপ্তরা হলেন- রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর, কামরুল ইসলাম সায়মুন, মো. মুসা।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওইদিনই মারা যান।

ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ৮ জানুয়ারি একই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনার শিশু আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ