একে একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে আট ধর্ষক

একে একে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে আট ধর্ষক

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৩ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

অভিযুক্ত ধর্ষকরা

অভিযুক্ত ধর্ষকরা

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার এজহারভুক্ত ছয় আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে সবাই আটকা পড়েছেন।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো তিন আসামির মধ্যে দুইজনও গ্রেফতার হয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউপির বরমা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত আট ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ।

গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে এমসি কলেজের মূল ফটক থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে প্রাইভেটকারের মধ্যে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি প্রথমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও ঘটনা জানাজানি হলে আত্মগোপনে চলে যায় অভিযুক্তরা। ওইদিন রাত থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রথম ৩৮ ঘণ্টা অর্থাৎ শুক্রবার ঘটনার পর শনিবার রাত পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে রোববার সকালেই ধর্ষক সাইফুর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকা থেকে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। সে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

যখন যেভাবে আটক হয় ৮ ধর্ষক 

ওইদিন ভোরে হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা এলাকার দূর্লভপুর গ্রাম থেকে ধর্ষণ মামলার চার নম্বর আসামি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম মরিচা এলাকার কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সারাদিন আর কোনো আসামির গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে মধ্যরাতে ফের সাফল্য দেখায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের নিজামপুর থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়া গ্রামের শাহ মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে মামলার ৫ নম্বর আসামি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়। ওই রাতে বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশ্য বৃথা যায়নি তাদের অভিযান। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের কচুয়া নয়াটিলা এলাকা অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার অজ্ঞাত আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন নামে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। 

এরপর সোমাবার সারাদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে কেউ ধরা পড়েনি। কিন্তু রাতে নির্ঘুম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরো তৎপর হয়ে ওঠে। সোমবার রাত ১২টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর থেকে মামলার ৬ নম্বর আসামি কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকার সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুমকে গ্রেফতার করে কানাইঘাট থানা পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার সারাদিনও অধরা ছিল মামলার এজহারভুক্ত অন্যতম আসামি তারেক। অবশ্য সন্ধ্যার দিকে সেও ধরা পড়ে র‌্যাবের জালে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউপির বরমা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদ নগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। 

রিমান্ডে আছেন যারা

গত শুক্রবার থেকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার আসামিদের খবরে সিলেটসহ সারাদেশের মানুষের চোখ ছিল। একের পর এক আসামি গ্রেফতারের খবরে যেমন উচ্ছ্বাস ছিলো তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতেও আন্দোলনে ঘরছাড়া ছিল এমসি কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। এ পর্যন্ত গ্রেফতার মধ্যে ৬ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়ায় ধর্ষক শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন ও আইনুদ্দিনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত সাইফুর রহমান তাদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি তদন্ত আদালতে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত সোমবার একই আদালতের বিচারক গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জন লস্কর ও রবিউল ইসলামের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সোমবার দুই দফায় আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদেরও সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

গত শুক্রবার রাতে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে এমসি কলেজের মূল ফটক থেকে তুলে হোস্টেলে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণাধীন কক্ষের সামনে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ