মিষ্টি খাইয়ে ছোট ভাইকে হত্যার পর নাটক সাজালেন বড় ভাই

মিষ্টি খাইয়ে ছোট ভাইকে হত্যার পর নাটক সাজালেন বড় ভাই

পাবনা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৫২ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সাঁথিয়া থানার ফাইল ছবি।

সাঁথিয়া থানার ফাইল ছবি।

ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো পাবনার সাঁথিয়ায়। প্রতিবেশীকে ফাঁসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে ছোট ভাই রবিউলকে হত্যার করল বড় ভাই রমজান। মৃত্যুর আগে ছোটভাইকে মিষ্টিমুখও করেছিল বড় ভাই। সেই মিষ্টিমুখের রহস্য ধরতে পারেনি নিহত রবিউল। তারপর  মৃত্যুর আগে দেখলেন বড় ভাইয়ের আসল রূপ।

গত শুক্রবার উপজেলার ধোপাদহ ইউপির তেঁথুলিয়া কারিগরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এরইমধ্যে রবিউল হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত চাকু গ্রামের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত রবিউল ইসলাম কারিগরপাড়ার আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে। গ্রেফতাররা হলেন- নিহতের আপন ভাই রমজান মোল্লা ও একই উপজেলার সরব গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে রুবেল।

সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে রবিউল-রমজানের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি হয়। ওই সময় মাদকাসক্ত রবিউলকে দোষারূপ করে মারধর করা হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে দাবি করেছিলেন রবিউল। 

এদিকে সোমবার রমজানকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওই সময় রমজান পুলিশকে জানান, রবিউল মাদকাসক্ত থাকায় তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেছে। বাড়িতে একা ছিল রবিউল। তাই রবিউলকে মেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। হত্যার পর প্রতিবেশীকে মামলায় ফাঁসানোর পর মীমাংসায় আসলে মোটা অংকের টাকাও আদায় করা যাবে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ছোট ভাইকে হত্যার জন্য রুবেলকে ভাড়া করেন রমজান। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘরে কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন রবিউল। গল্পগুজব করে রবিউলকে ‘পথ্য’ হিসেবে মিষ্টিও খাওয়ান রমজান। পরে টিপ চাকু দিয়ে রবিউলকে জবাই করেন রমজান। ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করতে রবিউলের পায়ের রগও কেটে দেন। এরপর তাকে বিছানায় কাঁথা গায়ে দিয়ে আবার শুইয়ে রাখেন। ওই দিন রাতে রবিউলকে হত্যা করা হয়েছে বলে চিৎকার করে সবাইকে জানান রমজান ও রমজানের স্ত্রী ।

সাঁথিয়া থানার ওসি আসাদুজ্জামার জানান, হত্যার আগে রমজান তার ছোট ভাইকে মিষ্টি খাইয়েছেন। তবে মিষ্টির সঙ্গে ঘুমের বা অন্য কোনো ওষুধ মিশিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করেননি। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় রমজান ছাড়াও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ