খুলনায় বেড়েছে ছিনতাই, আতঙ্কে ব্যাংক গ্রাহকরা

খুলনায় বেড়েছে ছিনতাই, আতঙ্কে ব্যাংক গ্রাহকরা

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৪ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

খুলনায় দেড় মাসে তিনটি ছিনতাই হয়েছে। একটি ব্যাংকের ভেতরে, বাকি দুটি ব্যাংকের বাইরে। সবগুলো ঘটনাই ঘটেছে দিনে-দুপুরে। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যাংক গ্রাহকরা।

সবশেষ সোমবার দুপুরে নগরীর স্যার ইকবাল রোডের অগ্রণী ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে রিকশাযোগে ফিরছিলেন ঠিকাদার মো. তারিকুল আলম। খুলনা সার্কিট হাউজ মোড়ে তিনটি মোটরসাইকেলে আট দুর্বৃত্ত তার রিকশাকে ঘিরে ধরে। এরপর তারিকুলকে মারধর ও গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে হাজী মহসিন রোড দিকে চলে যায় হেলমেট পরিহিতরা।

আহত তারিকুল আলম বলেন, দুর্বৃত্তরা আমার বুকে কয়েকটি ঘুষি মারে। ওই সময় আমি মাটিতে পড়ে যাই। তখন অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মাহবুব কায়সার বলেন, এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় জিডি করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে প্রকাশ্যে এমন ঘটনায় হতবাক হয়েছি।

খুলনা সদর থানার ওসি আশরাফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক। অভিযান ও তদন্ত চলছে।

এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর নগরীর তেতুলতলা মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্য দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ছিনতাইকারী চক্র। এরপর ব্যাংকিং লেনদেন কেন্দ্রিক গ্রাহকদের ওপর ছিনতাইকারীদের সক্রিয়তার বিষয়টি নজরে আসে। এ ঘটনায় ব্যাংক থেকে একজনকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে স্থানীয়রা। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ মামলাকরলে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ছিনতাই হওয়া দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা যায়নি।

ছিনতাইয়ের শিকার পুলিশ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, ওইদিন শিববাড়ী মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দিতে গিয়েছিলাম। ব্যাংকে টেবিলের পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে জমা স্লিপ পূরণ করছিলাম। হঠাৎ দেখি টাকাভর্তি ব্যাগ নেই। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করলে ব্যাংকের দারোয়ান গেট বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে টাকার ব্যাগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা সরে পড়েছে। জমা স্লিপ পূরণের সময় দুর্বৃত্তদের একজন আমার সঙ্গে কথা বলছিল। তাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়ে। পরে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট খুলনা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে যাওয়ার পথে এক হিমায়িত মৎস্য ব্যবসায়ীর ১৩ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর ছিনতাইকারীরা প্রাইভেটকারের পিছু নেয়। পরে পুলিশকে জানালেও ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, নগরীর শিববাড়ি, ফেরিঘাট, পিকচার প্যালেস মোড় এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের অসংখ্য শাখা রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি না থাকায় লেনদেনের সময় অপরাধী বা তাদের লোকজন ব্যাংকের ভিতরে অবস্থান নেয়। গ্রাহককে লেনদেনে সহায়তার নামে কিংবা চলাচলের পথে তারা সুযোগ বুঝে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কানাই লাল সরকার বলেন, বিচ্ছিন্ন দুয়েকটি ঘটনা ছাড়া খুলনার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। সম্প্রতি ওই দুটি ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর