বিদেশি আনার দেশেই চাষ, বছরে ৫ লাখ টাকা আয়!

বিদেশি আনার দেশেই চাষ, বছরে ৫ লাখ টাকা আয়!

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫১ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আনার চাষ করে সফলতার নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মোকাররম হোসেন। কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে জেলায় বেকার যুবকদেরও আগ্রহ বাড়িয়েছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, মোকাররম হোসেনের কল্যাণে দেশে এই প্রথম আনার চাষ করা হচ্ছে। দুই বছর আগে পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি আনার চাষ শুরু করেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে আনার বিক্রিও শুরু করেছেন তিনি।  

মোকাররম হোসেন জানান, ভারতীয় আনার চাষ করেছি। বাংলাদেশে বেদেনার তুলনায় এ জাতের ফলে মাপ ও স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ইউটিউবের মাধ্যমে এ জাতের গুণাগুণ দেখে আগ্রহী হই। এরপর ভারতের একটি কৃষি ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের পরামর্শ মতোই বাগান শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, বাগান তৈরিতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। বাজার ভালো থাকলে বছরে ফল বিক্রি হবে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা। দুই বছর আগে এক হাজার পিস চারা রোপণের কাজ শুরু করি। এরমধ্যে ৮০০ পিস গাছ বেড়ে উঠতে শুরু করে এবং চলতি বছরের মাঝামাঝিতে তা থেকে স্বল্প পরিসরে ফল উৎপাদন শুরু হয়। আসছে শীত মৌসুমে ব্যাপকহারে ফল উৎপাদন সম্ভব। দেশের বাজারে আনারের পর্যাপ্ত চাহিদা মেটানো যাবে। এতে করে প্রতি বছর আনারের আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমে যাবে।

বাগানটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন ভারতের একটি আধুনিক কৃষি ফার্মের একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ। ভারত মহারাষ্ট্রের কৃষি ফার্ম সয়েল চার্জার টেকনোলজির কৃষিবিদ হারসাল মুখেকরের মতে, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া আনার চাষের জন্য বেশ কঠিন ছিল। সেই কঠিন কাজটি সহজ করতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে। এক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রযুক্তিও ব্যবহার করতে হয়েছে। 

দেশের প্রথম আনারের বাগান। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাগানটির ইতিকথা ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ কারণে আনার বাগান দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতশত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন বাগানটিতে। দর্শনার্থী শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি ইউটিউব ও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে এ বাগানের সফলতার গল্প শুনেছেন। সেই আগ্রহ থেকেই বাগানটি দেখতে এসেছেন। চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত এমন অঞ্চলে এমন সফলতা তাকে উদ্বুদ্ধ করছে। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আলী হাসান জানান, বাগানটির শুরু থেকে নানা সময় পরামর্শ দিয়ে কৃষি বিভাগ তার পাশে ছিলো। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়া আনার বাগানটির উদ্যোক্তা শতভাগ সফল হলে দেশে ফলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। একই ক্রয়মূল্যও ভোক্তার হাতের নাগালে থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম