অত্যাধুনিক সুবিধায় নতুন জগতে চাঁদপুরে গণগ্রন্থাগার 

অত্যাধুনিক সুবিধায় নতুন জগতে চাঁদপুরে গণগ্রন্থাগার 

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৬ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:১৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

তাকে তাকে সাজানো বইয়ের সারিতে কার না নজর পড়ে। তবে তা যদি হয় অত্যাধুনিক। তাহলে আর পাঠকের আগ্রহের কমতি থাকে না। ঠিক সেরকমই চাঁদপুর গণগ্রন্থাগার। এরইমধ্যে দেশের ছয়টি অত্যাধুনিক লাইব্রেরির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই গ্রন্থাগার। 

এই গ্রন্থাগারে বই সংখ্যা ২৪ হাজার ৩শ’ ৬৩টি। রয়েছে- ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান, আইটি, ভূগোল, গণিত, বিভিন্ন রকম সরকারি গেজেট, বিভিন্ন ম্যাগাজিন, রেফারেন্স ও সাম্প্রতিক তথ্যসেবা, উপদেশমূলক সেবা ও পুরাতন পত্রিকা।

সপ্তাহে শনিবার-বুধবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উম্মুক্ত রয়েছে। জাতীয় পত্রিকার মধ্যে রয়েছে দৈনিক যুগান্তর, প্রথম আলো, সমকাল, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, সংবাদ ও নয়া দিগন্ত, ডেইলি স্টার ও বাংলাদেশ পোস্ট। সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রোববার, মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও ক্রীড়া জগৎ। 

একটি মিলনায়তন, সাধারণভাবে ১শ’জন বসে পাঠ্যাভ্যাস ও মিলনায়তনে ১৫০জন বসার ব্যবস্থা রয়েছে সেমিনার করার জন্যে ব্যবহার করা যাবে। সাহিত্য কেন্দ্র অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা রয়েছে তবে এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ আসেনি করোনার কারণে।

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রন্থাগার অধিদফতরের ‘ছয় জেলা পাবলিক লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ প্রকল্প’র অধীন চাঁদপুর সরকারি গণগ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। এটি চাঁদপুর সদরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বে বিটি সড়কের পশ্চিম পাশে .২২ শত্যাংশ ভূমির ওপর ৬ তলা ভীতে এটি নির্মাণ হয়েছে। 

নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও গ্রন্থাগারের আকর্ষণের জন্য আরো সম্প্রসারণমূলক কাজের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা, হাতের সুন্দর লেখা প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এর মধ্যে অন্যতম। ইন্টারনেট ও উপদেশমূলক সেবা প্রদান করার ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। গ্রন্থাগারে অত্যাধুনিক ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় জনবলও রয়েছে।

এ সব সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে-সাধারণ গ্রন্থাগার, অনার্স-মাস্টারর্স শিক্ষার্থীদের জন্যে ই-গ্রন্থগার, ই-গ্রন্থাগারের জন্যে পর্যাপ্ত ল্যাপটপ ও আসবাবপত্র, শিশুদের পড়ার সু-ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের র‌্যামওয়ে, ৩শ’আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম ও মঞ্চ, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ও অতিক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রি-ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক গ্রন্থ, জাতীয়-স্থানীয় দৈনিক বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্র, বিভিন্ন প্রকার সাময়িকী ও জার্নাল ইত্যাদি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি লাইব্রেরিয়ান উম্মে রায়হান ফেরদাউস বলেন, এর কাজ কর্ম শুরু হয় জুলাই ২০১৯ থেকে। তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ হয়েছে একটু বিলম্বে। গণপূর্ত বিভাগ, চাঁদপুর ১৩ সেপ্টেম্বর আমাদের নিকট আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করে। করোনা পরিস্থিতিতে বিগত কয়েক মাস পর আবার এর কার্যক্রম শুরু হলো।

গণপূর্ত বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, এ লাইব্রেরী থেকে জ্ঞানপিপাষূগণ নিয়মিত আধুনিক সেবা পাবেন। অনার্স-মাস্টারর্স শিক্ষার্থীদের জন্যে ই-গ্রন্থগার ও ই-গ্রন্থাগারের জন্যে পর্যাপ্ত ল্যাপটপের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের যে কোনো বিষয় জানতে পারেবে। ফ্রি-ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠকগণ বই, সংবাদপত্র, বিদেশি জার্নাল ও সাময়িকী পড়ার সেবা পাবেন।

তিনি আরো বলেন, ২৫০ থেকে ৩শ আসন বিশিষ্ট যে অডিটরিয়ামটি রয়েছে তা সরকারি ও বেসরকারি যে কোনো সভা বা আলোচনা বা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাবে। প্রতিবন্ধীরাও জ্ঞান অর্জন ও ই-লাইব্রেরির সুযোগ পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম