এক রাতের বৃষ্টিতে ভেসে গেল ৫৬ কোটি টাকার মাছ 

এক রাতের বৃষ্টিতে ভেসে গেল ৫৬ কোটি টাকার মাছ 

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৭ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৫ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৭ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে

১৭ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে

এক রাতের প্রবল বৃষ্টিতে রংপুরে ৫৬ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। আকস্মিক এই দুর্যোগের আঘাতে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা মৎস্যচাষিরা। অন্যদিকে হেক্টরের পর হেক্টর আমন ক্ষেত তলিয়ে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে কৃষকরা।

রংপুর নগরীর বোতলা এলাকায় শনিবার একরাতের বর্ষণে এক সঙ্গে ভেসে গেছে বেশ কয়েকটি মাছের খামার। মাছ রক্ষার কোনো সুযোগই পাননি চাষিরা। এভাবে জেলার ৭ হাজার ৫৫৩ টি পুকুর থেকে ৩ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে।  

শনিবার বৃষ্টিপাতে ভেসে যায় নগরীর বোতলা, কামালকাছনা, কুকরুল. জলকর, ধাপ, চিকলিসহ ৩৩ টি ওয়ার্ডেও বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা মৎস খামার। মাছ রক্ষার কোনো সুযোগই পাননি চাষিরা। এভাবে জেলার আট উপজেলার ৭ হাজার ৫৫৩ টি পুকুর থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। 

এক রাতের প্রবল বৃষ্টিতে রংপুরে ৫৬ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে

পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউপির মৎস চাষি বাবু খান, শরিফ উদ্দিন জানান, তাদের ৪ বিঘার দুটি পুকুর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সব মাছ ভেসে গেছে। এতে করে তাদের কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। 

নগরীর বোতলা এলাকার মৎস চাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, লিজ নিয়ে পুকুরে মাছের চাষ করেছিলাম। প্রবল বর্ষণের কারণে পুকুর উপচে সব মাছ ভেসে গেছে। এতে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমনের ক্ষেতগুলো এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। জমি থেকে কবে পানি কমবে তা নিয়ে চিন্তায় আছে কৃষকরা। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. সরওয়ারু হক জানান, আমনের জমি থেকে দ্রুত পানি সরে গেলে কৃষক ক্ষতির মুখ থেকে অনেকটা রেহাই পাবে। অনেক এলাকা থেকে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। আশা করি বুধবারের মধ্যে পানি সরে যাবে। পানি সরে গেলে ফসলের খুব একটা ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি। এবার জেলায় এক লাখ পঁয়ষট্টি হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেড় হাজার হেক্টরসহ জেলার প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আর ৬ হাজার ২০০ হেক্টর শাক-সবজির মধ্যে ১৪০০ হেক্টর জমির শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে