মাগুরায় পর্নোগ্রাফি মামলায় ভুক্তভোগীর ‘প্রতীকী নাম’ দিয়ে ব্যতিক্রমী রায়

মাগুরায় পর্নোগ্রাফি মামলায় ভুক্তভোগীর ‘প্রতীকী নাম’ দিয়ে ব্যতিক্রমী রায়

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৪৭ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৪ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

পর্নোগ্রাফির শিকার ভুক্তভোগী এক নারীর সম্ভ্রম রক্ষায় মামলার রায়ে তার প্রতীকী নাম ব্যবহার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান। সোমবার দেয়া এ রায়ে কলেজপড়ুয়া ওই মেয়েকে ‘কল্প’ নামে অভিহিত করেছেন তিনি। দেশের বিচার ব্যবস্থায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কিংবা বিচারপ্রার্থীর নিজ নামের পরিবর্তে প্রতীকী নামে রায় ঘোষণার ইতিহাস এটিই প্রথম এমন দাবি আদালত সংশ্লিষ্টদের।

অশ্লীল ছবি সংরক্ষণ এবং প্রচারের অভিযোগে ২০১৭ সালে কলেজপড়ুয়া ওই মেয়েটি মামলা করেন। দায়ের করা মামলার তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সোমবার আসামি যুবায়ের হোসেনকে দোষীসাব্যস্ত করে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  শুধু তাই নয়, এই জরিমানার অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভিকটিম প্রাপ্ত হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। আর রায়ে ভুক্তভোগী মেয়েটির প্রকৃত নাম উল্লেখ না করে প্রতীকী নাম হিসাবে ‘কল্প’ উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের হোসেন দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় ‘কল্প’র সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর এক পর্যায়ে ঘনিষ্টতার সুযোগে সে মেয়েটির ব্যক্তিগত কিছু ছবি নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে। বিষয়টি জানতে পেরে কল্প তার সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানে। এ অবস্থায় ধারণকৃত এসব ছবি মুছে ফেলা হয়েছে জানিয়ে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালায় জুবায়ের। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় সে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ছবিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে। এ অবস্থায় কল্প ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট থানায় বিচার চেয়ে মামলা করেন।

মামলার এ রায়ের বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদা বেগম বলেন, পুলিশি তদন্তের পর সাক্ষ্য প্রমাণাদি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জিয়াউর রহমান সোমবার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ মামলার যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এই ধরনের রায়ের কোনো নজির না থাকায় বিজ্ঞ বিচারক ইন্ডিয়ান সুপ্রীম কোর্টের ছদ্মনাম 'নির্ভয়া'র একটি মামলা এবং ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত দুজন আসামির প্রকৃত নামের পরিবর্তে ‘এন ওয়ান’ এবং ‘এইচ ওয়ান’ অবিহিত করে রায় প্রদানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন।

আলোচিত এই মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী শফিকুজ্জামান বাচ্চু বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে ও স্বাধীনতা চর্চায় উন্নত দেশের তুলনায় আমরা পশ্চাদপদ অবস্থানে। ব্রিটেন আইন করে ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ করেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ধর্ষণসহ যৌন অপরাধে ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ নিষিদ্ধ।

আমাদের দেশেও 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ পায় এমন কিছু প্রকাশ নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ মানছে কেউ মানছে না। এ অবস্থায় ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ না করে রায় প্রদানের ঘটনা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক।

আগেও তিনটি মামলার রায়ে বিজ্ঞ বিচারক জিয়াউর রহমান প্রচলিত কারাদণ্ডের পরিবর্তে গাছ লাগানো ও মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার ব্যতিক্রমী রায় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এআর