সড়ক কেটে সরানো হচ্ছে বৃষ্টির পানি

সড়ক কেটে সরানো হচ্ছে বৃষ্টির পানি

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৩ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

রংপুরে জমে থাকা পানি সরাতে কেটে দেয়া হয়েছে সড়ক

রংপুরে জমে থাকা পানি সরাতে কেটে দেয়া হয়েছে সড়ক

রংপুর নগরীতে ১১০ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নিদারুণ কষ্টে আছে মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়ি, অনেকের ঘরে জ্বলেনি চুলা। উপায় না পেয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে নগরীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও উঁচু ভবনের বারান্দায়। এমন পরিস্থিতিতে রান্না করা খিচুরি ও শুকনো খাবার নিয়ে পানিবন্দি দেড় লক্ষাধিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর মেডিকেল পাকার মাথা এলাকার রংপুর-গঙ্গাচড়া সড়ক কেটে দিয়েছে স্থানীয়রা। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানায়, সড়কের বাম পাশে জলাবদ্ধতার কারণে শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরেই বুক সমান পানি। তাই বাধ্য হয়ে সড়ক কেটে পানি সরানো হচ্ছে। পানি পুরোপুরি সরতে আরো দুই-তিনদিন লাগতে পারে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পানিতে থৈ থৈ করছে রংপুর চিড়িয়াখানা। সেখানকার লেকের পানি উপচে বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশ করায় প্রাণীগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। বাঘ, সিংহ, ভাল্লুকের খাচা উচু থাকায় সেগুলোতে পানি প্রবেশ করতে পারেনি।

পানিতে থৈ থৈ করছে রংপুর চিড়িয়াখানা

রংপুর চিড়িয়াখানার অফিস সহকারী বাদল রহমান জানান, বৃষ্টি ও লেকের পানি ভেতরে প্রবেশ করায় চিড়িয়াখানায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণীগুলোকে সতর্কভাবে দেখভাল করা হচ্ছে।

এছাড়া নগরীর মুলাটোল, কোতোয়ালি থানা, মুন্সিপাড়া, গোমস্তপাড়া, গুপ্তপাড়া, ধাপ পাকার মাথা, জলকর, হনুমানতলা, খলিফা পাড়া, সর্দার পাড়া, ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, ঈদগাহ পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- অধিকাংশ সড়ক ও অলিগলি এখনো হাঁটুপানি ও কোমর সমান পানির নিচে। বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার আশপাশের স্কুল-কলেজের উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ‎মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। ড্রেনে-খালে ময়লা আবর্জনা ফেলায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসী সচেতন হলে এমনটা হতো না।

রংপুরের ডিসি আসিব আহসান জানান, রোববার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর