আবার দেখা মিলবে ‘আগুন চোখা’ আঙ্গুস মাছের

আবার দেখা মিলবে ‘আগুন চোখা’ আঙ্গুস মাছের

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১০ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বিলুপ্তপ্রায় ‘আঙ্গুস’ মাছ

বিলুপ্তপ্রায় ‘আঙ্গুস’ মাছ

আঙ্গুস মাছ। মিঠা পানির আগুন চোখা মাছ। ২০০৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার-এ (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত হয় মাছটি। অর্থাৎ ১৫ বছর আগেই বিলুপ্তির পথে নাম লেখায় সুস্বাদু এ মাছ। তবে শিগগিরই আবার সহজলভ্য হতে চলছে আঙ্গুস মাছ। এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।

জানা গেছে, আঙ্গুস মাছ বৃহত্তর সিলেট ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে প্রচুর পাওয়া যেত। অঞ্চলভেদে আঙ্গুস মাছ আগুন চোখা, আংরোট ও কারসা নামে পরিচিত ছিল।

বিএফআরআই জানিয়েছে, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপকেন্দ্র থেকে এবার আঙ্গুস মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে মাছটি এখন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। চাষাবাদের মাধ্যমে এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাবে।

আঙ্গুস মাছ অঞ্চলভেদে আগুন চোখা, আংরোট ও কারসা নামে পরিচিত

উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রশীদুল হাসান ও শওকত আহমদ জানান, মাছটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্র থেকে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, চিকলী ও আত্রাই নদী থেকে আঙ্গুসের ১৫-২০ গ্রাম ওজনের পোনা সংগ্রহ করা হয়। পোনা সংগ্রহের পর সৈয়দপুর গবেষণা উপকেন্দ্রের পুকুরে প্রতিপালন করে ব্রুড মাছ তৈরী করা হয়। পরে চলতি প্রজনন মৌসুমে হরমোন ইনজেকশন দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

আঙ্গুস মাছের কৃত্রিম প্রজনন তুলনামূলকভাবে জটিল ও নার্সারি ব্যবস্থাপনায় পোনার মৃত্যুর হার বেশি। এ বিষয়ে আরো গবেষণা চলছে বলেও জানান ওই দুই মৎস্য বিজ্ঞানী।

জানা গেছে, মিঠা পানির আঙ্গুস মাছ আকারে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। একটি স্ত্রী আঙ্গুস মাছের ডিম ধারণ ক্ষমতা আকারভেদে ২০-৫০ হাজার। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি আঙ্গুস মাছ ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম হলেই পরিপক্ক ও প্রজননক্ষম হয়ে যায়। এর প্রজননকাল মে-আগস্ট। তবে জুন-জুলাই মাস সর্বোচ্চ প্রজননকাল। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মাছের চেয়ে একই বয়সের স্ত্রী মাছ আকারে বড় হয়।

১৫ বছর আগেই বিলুপ্তির পথে নাম লেখানো সুস্বাদু ‘আঙ্গুস’ মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট

প্রজনন সফলতা সম্পর্কে একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিএফআরআই’র মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, বিলুপ্তপ্রায় মাছ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ গবেষণায় আমারা আরো একটি সফলতা পেয়েছি। ইনস্টিটিউট থেকে এরইমধ্যে ২৩ প্রজাতির বিপন্ন ও দেশীয় ছোট মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউটে বর্তমানে রাণী মাছ, কাকিলা, পিয়ালী, বাতাসী, কাজলী, শালবাইম, ডেলা ও বোল মাছ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর