সাইফুরের সন্ত্রাসী ও ধর্ষক হয়ে ওঠার কাহিনী

সাইফুরের সন্ত্রাসী ও ধর্ষক হয়ে ওঠার কাহিনী

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৩৬ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সুরমা নদীর খেয়াঘাট থেকে ধর্ষক সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ

সুরমা নদীর খেয়াঘাট থেকে ধর্ষক সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ

সিলেটের এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাসে এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে সাইফুর রহমানের হাত ছিল না। ছাত্রাবাসে অবৈধ সিট দখল, সিট বাণিজ্য, খাবারের টাকা না দেয়া, ক্রীড়া সামগ্রীর জিনিসপত্র বিক্রি করা, সাধারণ ছাত্রদের হয়রানি, মারধর, গালাগালি, মিছিল মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। মোট কথা সাইফুরের নাম শুনলেই যেন ভয়ংকর এক সন্ত্রাসীর সংস্করণ চোখে ভেসে উঠে।

ছাত্রাবাসের পাশের বাজার বালুচরে সে কখনো টাকা পরিশোধ করত না। দলবল নিয়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ও দোকানে খাওয়া দাওয়া করতো। তার বিরুদ্ধে বাকিতে খাওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। ভয়ে এতদিন চুপসে ছিলেন সেখানের ব্যবসায়ীরা। শুধু রেস্টুরেন্টে নয়, সাইফুর টিলাগড় ও বালুচরের সেলুনগুলোতে টাকা না দিয়েই চুল ও দাড়ি কাটত। টাকা চাইলে দোকান ভাঙচুরের ভয় দেখাতো।

                                        আরো পড়ুন: যেভাবে গ্রেফতার হলেন ধর্ষক সাইফুর

কলেজ ক্যাম্পাসের নিয়মিত ছাত্রীদের জন্য সাইফুর ছিল যম! ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রীদের ইভটিজিং করা ছিল তার নেশা। এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ায় পর দেড় বছর সে ক্যাম্পাসে আসেনি। আসলেও হাত মোজা কিংবা বোরকা পড়ে চুপিসারে আসতো! মেয়েদের ওড়না টান দেয়া ছিল তার খুব সাধারণ একটি কাজ। 

তার কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের দুটি পক্ষ বিব্রত থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা কখনোই নেয়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি প্যান্টের বেল্ট খুলে মারধরের অভিযোগ রয়েছে সাইফুরের বিরুদ্ধে। 

তাকে সবসময় সঙ্গ দিতো তার সঙ্গে থাকা ছেলেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানান, ২০১৮ সালে তিনিসহ তার বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনের সামনে। এ সময় সাইফুর এসে তাদের সঙ্গে থাকা মেয়ে বন্ধুটিকে উত্যক্ত করেন। সবাই প্রতিবাদ করলে সাইফুর সবাইকে বেধড়ক প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেঠাতে থাকে। লজ্জা, আত্মসম্মান ও ‘ক্ষতাসীন‘ সাইফুরের ভয়ে ওই শিক্ষার্থীরা কাউকে এই বিষয়ে বলেননি।

                  আরো পড়ুন: এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: আসামিদের ধরতে সীমান্তে নজরদারি

ঘটনা শুনে মেয়েটির গরিব অভিভাবক তাড়াহুড়ো করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। এভাবেই শত মায়ের, বাবার, ভাইয়ের, বোনের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সাইফুর। এভাবেই তার সন্ত্রাসী জীবনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। মোটরসাইকেল নিয়ে নিয়মিত মহড়া দিতো ক্যাম্পাসে সে। ইচ্ছা করেই সে অনেক ছেলেমেয়েদের ধাক্কা দিতো। শুধুমাত্র ভয়ে কেউ কিছু বলেননি। তাকে যারা লালন পালন করতো তাদের কাছেও অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যেত না। 

এমসি কলেজের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে শতাধিক মানুষ আসতেন। সেখানেও বিভিন্ন পন্থায় দল নিয়ে ছিনতাই করতো সাইফুর! ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে মাদক সেবন করতো তার দখলকৃত ছাত্রবাসের বাংলাতো।

এছাড়া এর আগেও সাইফুর ও তার গংদের দ্বারা অনেক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার সকালে ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জের ছাতকে সাইফুর গ্রেফতার হয়েছে। অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন। এই স্বস্তি যাতে জীবনভর সবাই ফেলতে পারেন সেই ব্যবস্থাই প্রশাসন করবে বলে কলেজ সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস