সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে বন্ধ আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগ

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে বন্ধ আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগ

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫২ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল

আড়াইশ’ শয্যার চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান ও জেলার বাইরে থেকে আসা রোগীদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

সরকারি নির্দিষ্ট খরচে হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে না পেরে অধিক খরচ দিয়েই বাধ্যতামূলক বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাচ্ছে রোগীরা। এর জন্যও রোগীদের ওই পরীক্ষাটি করাতে হাসপাতাল থেকে অন্য স্থানে আসা-যাওয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেক রোগী।

আরো পড়ুন: প্রহরীকে বেঁধে চেয়ারম্যানের খামার থেকে ১৬টি গরু ডাকাতি

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই বিভাগটিতে রেডিওলজিস্ট ও কনসালটেন্ট পদে তিনজন চিকিৎসক কর্মরত ছিলো। তাদের পদোন্নতি হওয়ার পর গত বছরের ২০ জুন থেকে হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরমধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটির দায়িত্বে থাকা রেডিওলজিস্ট ডা. সফিকুল ইসলাম গত ৫ মে পদোন্নতি লাভ করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটির কার্যক্রম পরিচালনা করেন হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মাইনুদ্দিন। তিনি গত ৫ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি লাভ করে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেন।

গত ২০ জুন আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা রেডিওলজিস্ট সনোগ্রাফী বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দিন পাটওয়ারী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। তিনি বিদায় নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি বন্ধ রয়েছে। এই পদের রেডিওলজিস্ট ও কনসালটেন্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পাওয়ার কারণে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের এ দুটি পদ শূন্য হয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালে এসে অল্প খরচে যে সেবা পেতো জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীরা। এখন এ বিভাগটি বন্ধ থাকায় সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

আরো পড়ুন: তিনদিনেও পদ্মায় খোঁজ মেলেনি ভাই-বোনের, অভিযান বন্ধ

চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আকরাম ও নাছিমা জানান, চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি বন্ধ থাকায় আমাদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি যদি বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে চিকিৎসা সেবা নেবে। দিন দিন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার মান কমে যাচ্ছে। আমরা চাই জেলায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালটি মডেল হিসেবে রূপান্তরিত হোক।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদৌলা রুবেল জানান, সরকারি হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা রেডিওলজিস্ট সনোগ্রাফী বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দিন পাটওয়ারী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরপরই আমরা এই পদে লোক নিয়োগ দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এই পদে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে। কিন্তু রেডিওলজিস্ট, কনসালন্টেট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পাওয়ার কারণে আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগটি বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আবারো এ পদে লোক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম