প্রেম প্রত্যাখান করায় ঝলসে দিল শরীর, হাসপাতালে কাতরাচ্ছে কিশোরী

প্রেম প্রত্যাখান করায় ঝলসে দিল শরীর, হাসপাতালে কাতরাচ্ছে কিশোরী

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১০ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ফাইল ছবি)

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ফাইল ছবি)

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর দেহ ঝলসে দিয়েছে দুই বখাটে। এসিডের যন্ত্রণায় কাতর কিশোরী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছটফট করলেও অর্থের অভাবে ঢাকা নিতে পারছে না তার দরিদ্র বাবা।

গত বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ওই কিশোরীর বাবা মোসলেম মিয়া জানান, একই এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করা আপন ও জাহিদ পৃথকভাবে খাদিজাকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। এমনকি বিভিন্ন সময় খারাপ প্রস্তাবও দেয় তারা। ওই দুই তরুণ সম্পর্কে চাচা ও জেঠাতো ভাই। তাদের বাড়ি ভোলা জেলায়। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামে থেকে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করে। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাতে জানালা দিয়ে তারা এসিড নিক্ষেপ করে। 

মেয়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বাবা মোসলেম মিয়া কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে হারুন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) বার্ন ইউনিটে এসিডে পোড়া যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন কিশোরী খাদিজা আক্তার মনি। বার্নিশ মিস্ত্রী অসুস্থ বাবা মোসলেম মিয়ার পক্ষে মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা থেকে ঢাকা নিতে পারছেন না। 

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, নির্যাতনের শিকার খাদিজার পরিবারের সন্দেহের তালিকায় আপন ও জাহিদ নামে দুই তরুণ রয়েছে। তবে ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে হারুন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছি। সন্দেহের তালিকায় থাকা ওই দুই তরুণকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

খাদিজার বাবা মোসলেম মিয়া আরো জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে। বাড়িতে সম্পত্তি না থাকায় তারা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া গ্রামের হোসেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে খাদিজা জানালার পাশে বসে মোবাইলে গান শুনছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি জানালা দিয়ে এসিড তার মেয়ে খাদিজার শরীরে নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তিনি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে এখানকার চিকিৎসকরা বলছেন, মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কিন্তু আমার আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. রাসেল খান বলেন, এসিডে মেয়েটির শরীরের প্রায় ৪৫-৫০ ভাগ ঝলসে গেছে। ৪০ ভাগ অতিক্রম করলেই আমরা কোনো পুড়ে যাওয়া রোগীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখি না। কারণ আমাদের আইসিইউ’র চিকিৎসা সেবা নেই। শরীরের অতিরিক্ত স্থান এবং শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া রোগীদের জন্য আইসিইউ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঠিক তখন ওই সেবা দিতে না পারলে পোড়া রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম