সিলেটে গণধর্ষণ: ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কই তদন্ত কমিটিতে

সিলেটে গণধর্ষণ: ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কই তদন্ত কমিটিতে

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৬ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ইনসেটে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিন

ইনসেটে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই কমিটি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কলেজের তিন সদস্যের কমিটিতে রাখা হয়েছে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিনকে।

এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছাত্রাবাসের দুই নিরাপত্তা কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিন। এ নিয়ে সিলেটে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের কয়েকটি ব্লক দখল করে রেখেছিল কিছু ছাত্রনেতা। ২০১২ সালেও তিনি ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক থাকার সময় অন্য ছাত্রদের কক্ষ থেকে তাড়াতে গিয়ে ছাত্রাবাসটি পুড়িয়ে দেন প্রভাবশালী ছাত্ররা। তখনকার সময়েও ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিনের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। এরপরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করে সেজন্য সবার পরামর্শ অনুযায়ী কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে আহ্বায়ক রাখা হয়েছে। আর ছাত্রাবাসের বিস্তারিত বিষয় জানার জন্য তত্ত্বাবধায়ক জামাল উদ্দিনকে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব নেয়া আরেক ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ ভট্টাচার্যকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তাকে কমিটিতে রাখার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা ন্যক্কারজনক। এ ঘটনায় আমরাও হতবাক। জামাল উদ্দিনকে কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে কারণ তিনি এ ছাত্রাবাসের অনেক পুরাতন তত্ত্বাবধায়ক। তার অনেক বিষয় জানা রয়েছে।

জানা গেছে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে থাকছেন ধর্ষণ ও অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান। তার দখলে থাকা ওই বাংলো থেকেই শুক্রবার রাতে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুইটি লোহার পাইপ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন শাহপরান থানার এসআই মিল্টন সরকার।

করোনার কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে এমসি কলেজ বন্ধ থাকলেও ছাত্রাবাস খোলা ছিল। ছাত্রাবাসে শুধু সাইফুর নয়; ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক জামাল উদ্দিনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছাত্রাবাসে অবৈধভাবে থাকতেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। সাইফুর রহমান কলেজের নিয়মিত ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও তাকে ছাত্রাবাসের অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রাবাসে এসব ছাত্র নানা ধরনের উৎপাত করলেও নীরব ছিলেন ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক।

এরইমধ্যে রোববার ভোরে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে নিজের চেহারায় পরিবর্তন করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সাইফুরের মুখে লম্বা দাড়ি থাকলেও গ্রেফতার এড়াতে দাড়ি কেটে ফেলে। সেই সঙ্গে চুলও ছোট করে সে। তবে ছদ্মবেশ ধরেও রক্ষা পায়নি সাইফুর।

শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় কয়েকজন যুবক। এরপর দুইজনকে মারধর করে স্বামীকে বেঁধে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর