যমুনা কারখানা থেকে সার নিচ্ছে না ২১শ’ ডিলার

যমুনা কারখানা থেকে সার নিচ্ছে না ২১শ’ ডিলার

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৬ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

যমুনা কারখানা থেকে সার নিচ্ছে না ডিলাররা

যমুনা কারখানা থেকে সার নিচ্ছে না ডিলাররা

উত্তরবঙ্গসহ ২০ জেলার প্রায় ২১শ’ ডিলার কারখানা থেকে সার সরবরাহ পাঁচদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। যমুনা সার কারখানা থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের জমাটবাঁধা, ছেড়া-ফাটা বস্তায় সার সরবরাহের অভিযোগে সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।

এর আগে আগস্ট মাসেও সার সরবরাহ বন্ধ হয়েছিলো। কিন্তু ৩৩ দিন যেতে না যেতেই আবারো সেই একই অভিযোগে কারখানার নিবন্ধিত ডিলাররা গত বুধবার থেকে সার উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এতে বিপাকে পড়েছে সার সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত শত শত ট্রাক ড্রাইভার-হেলপার, শ্রমিকসহ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলো।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানায় সার সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কার্যক্রমও শুরু করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন: ঘাতক মিজান ও তার সহযোগীদের নিয়ে ভয়ংকর তথ্য জানালো এলাকাবাসী

যমুনা সার কারখানার বিক্রয় শাখা সূত্র জানায়, কারখানায় বর্তমানে নিজস্ব উৎপাদিত ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে ৫২ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন। বাইরে থেকে আমদানি করা সার মজুদ রয়েছে ৩৩ হাজার ৪৪৯ মে. টন। বিসিআইসি’র তালিকাভুক্ত ডিলারদের প্রতিমাসে কারখানার কমান্ড এরিয়ায় সরবরাহের জন্য ১২ মে. টন সার বরাদ্দ। এরমধ্যে যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত সার ১০ মে. টন ও বাইরে থেকে আমদানিকৃত দুই মে. টন সার গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট ডিলারদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমদানিকৃত সারগুলোর বস্তা ছেড়া-ফাটা ও জমাটবাঁধা। অপরদিকে কারখানার গুদামে ধারণক্ষমতা না থাকায় সারের বস্তাগুলোর বাইরে স্তুপ করে রেখে দেয়া হয়েছে। এতে চলমান সারগুলো পচে-গলে গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। নিম্নমানের সার কৃষকরা গ্রহণ না করায় ডিলারদের প্রতিমাসে বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতে হয়। ফলে বুধবার থেকে ডিলাররা পচা সার গ্রহণ বন্ধ করে দেয়ায় পাঁচদিন ধরে সার সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

মেসার্স আকলিমা এটারপ্রাইজর মালিক আলী আকবর ও মেসার্স এল কে এটারপ্রাইজর মালিক লুৎফর রহমানসহ কয়কজন ডিলার অভিযাগ করে জানান, খোলা আকাশের নিচে ফেলা রাখা সার দীর্ঘদিন রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিত ভিজে গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ পুনরায় সেগুলো রিপ্যাকিং করে ডিলারদের নিতে বাধ্য করে আসছে। সারগুলো জমিতে প্রয়োগের সময় পাউডার হয়ে উড়ে যায় ও ফসলের কোনো কাজেই আসে না। ফলে ওইসব নিম্নমানের সার কৃষক নিতে না চাওয়ায় ডিলারদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই এসব গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে।

যমুনা কারখানা থেকে সার নিচ্ছে না ডিলাররাএ ব্যাপারে কারখানার ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ওয়ায়ছুর রহমান জানান, ‘ডিলাররা পাঁচদিন ধরে সার গ্রহণ বন্ধ রেখেছ।’ এর বাইরে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরো পড়ুন: অটোচালকের সততায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ফেরত পেলেন নারী

যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার জানান, আমরা সার নিয়ে বসে আছি। ডিলাররা না নিলে আমরা কী করতে পারি?

তিনি আরো জানান, জমাট বাঁধলেই সারের গুনগত মান নষ্ট হয় না। জমাটবাঁধা, ছেড়া-ফাটা বস্তার সার রি-প্যাকিং করে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কবে নাগাদ সার সরবরাহ শুরু হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিলারদের মাঝে সার সরবরাহ শুরু হবে বলে আমি আশাবাদী। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম