যেভাবে গ্রেফতার হলেন ধর্ষক সাইফুর

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ

যেভাবে গ্রেফতার হলেন ধর্ষক সাইফুর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৫ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:৪২ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

সুরমা নদীর খেয়াঘাট থেকে ধর্ষক সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ

সুরমা নদীর খেয়াঘাট থেকে ধর্ষক সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্ত হয়ে ভারত পালাতে চেয়েছিলেন সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান। এ কারণেই রোববার ভোরে ছাতক নোয়ারাই এলাকায় সুরমা নদীর খেয়াঘাটে যান তিনি। খবর পেয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন ছাতক সার্কেলের এএসপি বিল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, সাইফুরের দাঁড়ি ছিল। তিনি দাঁড়ি কেটে মুখে মাস্ক লাগিয়ে ভোরে সুরমা নদীর খেয়াঘাটে যান। সীমান্ত এলাকায় গিয়ে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছিলেন সাইফুর। তাকে পালাতে কেউ সহায়তা করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাতক ও দোয়ারাবাজারে তার আত্মীয় আছে কিনা খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন: যেভাবে গ্রেফতার হলো ধর্ষক অর্জুন লস্কর

ছাতক থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় পুলিশের নজরদারি চলছিল। সাইফুরকে ভোর ছয়টা থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা খেয়াঘাট পার হয়ে অপেক্ষা করতে দেখে সন্দেহ হয়। কাছে যেতেই ছবির সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়। তখন তাকে নাম জিজ্ঞেস করা হয়। এতে তিনি সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। থানায় তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

তিনি আরো জানান, এই খেয়া পার হয়ে সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলায় যাওয়ার দুটো পথ আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বুগলা সড়কপথ। এই সড়কপথ বুগলা গেলে নিরাপদে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করার সুযোগ ছিল সাইফুরের।

ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ছয়টার দিকে সাইফুরকে আটক করে হেফাজতে নেয়া হয়। এরপর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ছাতক থানা থেকে সিলেটের শাহপরান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: আসামিদের ধরতে সীমান্তে নজরদারি

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। তিনি ছাত্রাবাসের ২০৫ নম্বর কক্ষে থাকতেন। শুক্রবার রাতে ধর্ষণের ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে ওই কক্ষ থেকে পাইপগান, চারটি রামদাসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে সাইফুরের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়েছে।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ধর্ষণ মামলা ছাড়াও সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা আছে। দুই মামলায়ই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর