লোক ঠকানোর হরেক প্রতিভার অধিকারী চট্টগ্রামের পারভীন

লোক ঠকানোর হরেক প্রতিভার অধিকারী চট্টগ্রামের পারভীন

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৩ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

প্রতারক পারভীন আক্তারকে গ্রেফতার ও বিভিন্ন ভুয়া চেক, স্ট্যাম্প, সঞ্চয় বই উদ্ধার করে র‍্যাব

প্রতারক পারভীন আক্তারকে গ্রেফতার ও বিভিন্ন ভুয়া চেক, স্ট্যাম্প, সঞ্চয় বই উদ্ধার করে র‍্যাব

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার মধ্যম সরাইপাড়া হাফিজ কমিশনার সড়কের বাসিন্দা পারভীন আক্তার। থাকতেন হালিশহর সড়কের বিটিআই ভবনে। লোক ঠকানোর হরেক প্রতিভার অধিকারী তিনি।

শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে নগরীর পাহাড়তলী থানার ডিটি রোড এলাকা থেকে নামে এ প্রতারককে আটক করেছে র‍্যাব। রোববার দুপুরে র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, পারভীন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট, ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক, ক্যাব সভাপতি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, এনজিও কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি নিয়োগকারী সংস্থার জিএম, আইনজীবী, পরিবেশবিদ পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিলেন। অভিযোগ পেয়ে ডিটি রোডের ঢাকা ভবনের (ইউনিয়ন ব্যাংক ভবন) ১০ম তলায় ‘স্বীকৃতি’ নামে একটি ভুয়া সংস্থার অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়।

পারভীন সুলতানা নামে প্রতারক পারভীন আক্তারের রয়েছে ভুয়া এনআইডি

তিনি আরো জানান, পারভীন আক্তারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সঞ্চয় ও ঋণ পাশ বই, স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও জমা বই, চুক্তিনামা, স্বাক্ষর করা ফাঁকা স্ট্যাম্প, ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের জরিমানা আদায়ের রশিদ, সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তার সিল, স্বীকৃতি নামক সংস্থার ডেবিট ও ক্রেডিট ভাউচার বই, ফিক্সড ডিপোজিট রশিদ বই, অনুদান আদায়ের রশিদ বই, ক্যাশ পজিশন বই, প্যাড, বিদেশ গমনের লিফলেট, ভিজিটিং কার্ড, নিয়োগপত্র, লেজার বই, অঙ্গীকারনামা বই, মাসিক চাঁদা আদায়ের রশিদ, মাইক্রো ফাইন্যান্স কর্মসূচির বই, হিসাব খোলার বই, সাপ্তাহিক টপশিট, মাসিক সঞ্চয় আবেদন বই, প্রকল্প প্রস্তাব, আইডি কার্ড, চারটি পাসপোর্ট এবং একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এএসপি মামুন জানান, পারভীন আক্তার ‘স্বীকৃতি’ নামের কথিত ওই সংস্থার প্রধান। নিম্ন আয়ের লোকজনই ছিল তার মূল টার্গেট। মিষ্টি কথা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক ভিত্তিতে সংস্থাটিতে সঞ্চয় করাতেন পারভীন। কিন্তু সঞ্চয়ের সীমা শেষ হয়ে গেলে টাকা দিতে টালবাহানা করতেন। আবার চাকরি দেয়ার নামে জামানত হিসেবে নিতেন ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তার প্রতারণার কারণে কোনো কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলে তাদের চুরির মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হতো।

প্রতারক পারভীন আক্তারের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ভুয়া পাশ বই-সঞ্চয় বই-লিফলেট, জাল চেক-স্ট্যাম্প-জরিমানার রশিদ

তিনি আরো জানান, ভুয়া ও অবাস্তব প্রকল্প এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নামে বিভিন্ন অধিদফতর-মন্ত্রণালয়ে অনুদানের আবেদন করতেন পারভীন আক্তার। কিছুদিন আগে ভূতুড়ে কার্যক্রম দেখিয়ে একটি মন্ত্রণালয়ে ৬ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৪০০ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদেও নিজের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন পারভীন আক্তার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় আদায়, ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়, আইনি সহায়তা দেয়া, চাকরি দেয়া বা বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ও আদালতে ১০টির বেশি প্রতারণা মামলা রয়েছে। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর