নেতৃত্ব সংকটে শেরপুর বিএনপি

নেতৃত্ব সংকটে শেরপুর বিএনপি

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫১ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:২৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরে নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। যোগ্য নেতা না থাকায় জেলা বিএনপির এখন টালমাটাল অবস্থা। দলের সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের নেতাদের ম্যানেজ করা, ঘুষ-উপহারে পদ দখল করা, কর্মীদের মূল্যায়ন না করা, মাদকসেবীসহ অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশের কারণে শেরপুরে কোনোরকমে টিকে আছে বিএনপি।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, টাকার জোরে উড়ে এসে জুড়ে বসে নেতা সেজেছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ১৫১ সদস্যের কমিটি বানিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই বহিরাগত ও অরাজনৈতিক। ওই কমিটির অনুমোদন নিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন জেলার সিনিয়র নেতাদের ঘুষ-উপহার দিয়ে ম্যানেজ করেছেন তারা।

তিনি আরো বলেন, হলমার্ক কলেঙ্কারির অন্যতম হোতা হযরত আলী। ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ফারর্মাস ব্যাংকসহ (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। দুই বছর ধরে দুদকের মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন হযরত আলী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম সাইফুল ইসলাম কালাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক আশীষ বেঁচে থাকতে শেরপুরে বিএনপির রাজনীতি চাঙ্গা ছিল। তারা দলের জন্য সবসময় কাজ করেছেন। কিন্তু মূল্যায়ন না পেয়ে ধীরে ধীরে দল থেকে সরে গেছেন। তাদের মৃত্যুর পর অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে চলে গেছে জেলা বিএনপি।

তারা আরো বলেন, এখন দলের কর্মসূচি চলে ঘরে বসে। কেন্দ্র থেকে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে কর্মীরা বাড়িতে বসে ব্যানার টাঙিয়ে ছবি তুলে তা কেন্দ্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে দিচ্ছে। বছরে একটা মিটিং করেই শেষ। এমন রাজনীতি শেরপুর বিএনপিতে কখনো হয়নি।

শেরপুরের এক সিনিয়র আইনজীবী বলেন, ২০১৯ সালে নতুন কমিটি গঠনের পরই শেরপুর বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলবিমুখ হয়ে পড়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়েছে। মানুষও তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, কিছু সুবিধাবাদী নেতা শেরপুরে বিএনপির ইমেজ নষ্ট করছেন। তারা তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের দল থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে জেলা বিএনপির কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দলবিমুখ নেতা-কর্মীদের ফিরিয়ে এনে ঐক্যবদ্ধ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/এইচএন